ব্রেকিং নিউজ

ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের যুদ্ধ ঘোষণা

দ্য বিডি এক্সপ্রেস ডট কম 

বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর একের পর এক আক্রমণে সীমান্তবর্তী বর্ডার পোস্টগুলো একে একে দখল করে নিচ্ছে বাংলার দামাল ছেলেরা। অপর দিকে বাংলাদেশের নিয়মিত বাহিনী কমলপুর, বিলোনিয়া, বয়রা প্রভৃতি বর্ডার পোস্টে হামলা করে  ৩০৭টি পোস্টের ৯০টিই দখল করে নিয়েছে। পাশাপাশি টুকরো টুকরো হয়ে গেরিলা বাহিনীর হামলাও তীব্রতর হয়ে উঠছে। পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার বাহিনীর মনে  ভয় বাড়তে শুরু করেছে। মুক্তিবাহিনী দেশের সীমান্তে ও দেশের অভ্যন্তরে প্রচণ্ড আক্রমণ করে চলেছে একের পর এক , জবাবে রাজাকার ও পাকসেনারা নিরীহ মানুষের উপর  অত্যাচারের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কিন্তু অক্টোবরের শেষের দিক থেকে মুক্তিবাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়ে এখন দিনের বেলাতেও সামরিক ঘাঁটি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে জরুরী ভিত্তিতে ৫ ব্যাটালিয়ন সৈন্য তলব করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ  দেখে  ঘটনা ভিন্ন খাতে পরিচালিত করতে আজকের এইদিনে অর্থাৎ ৩রা ডিসেম্বর ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

১৯৭১ সালের ৩রা ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটায় রেডিও পাকিস্তানের সংক্ষিপ্ত এক বিশেষ সংবাদে জানানো হয় ‘ভারত পশ্চিম পাকিস্তানের সীমান্তজুড়ে আক্রমণ শুরু করেছে। বিস্তারিত খবর এখনো আসছে।’ এদিকে পাঁচটা ৯ মিনিটে পাকিস্তানের পেশোয়ার বিমানবন্দর থেকে ১২টি যুদ্ধবিমান উড়ে যায় কাশ্মীরের শ্রীনগর ও অনন্তপুরের উদ্দেশ্যে । অপরদিকে সারগোদা বিমানঘাঁটি থেকে আটটি পাক মিরেজ বিমান উড়ে যায় অমৃতসর ও পাঠানকোটের দিকে। সেই সাথে দুটি যুদ্ধবিমান বিশেষভাবে প্রেরিত হয় ভারত ভূখণ্ডের গভীরে আগ্রায় আঘাত করার উদ্দেশ্যে। মোট ৩২টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয় এই আক্রমণে।

এই খবরের পর ৩রা ডিসেম্বর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কোলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে এক বিশাল জনসভায় যখন বক্তৃতা দিচ্ছেলেন, তখন ভারতের বিভিন্ন বিমান ঘাঁটিতে পাকিস্তানের উল্লিখিত বিমান-আক্রমণ শুরু করে। এ অবস্থা দেখে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দিল্লী প্রত্যাবর্তন করেন। শুরু হয় মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক। বৈঠক থেকে মধ্যরাত্রির কিছু পরে বেতার বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বলেন, এতদিন ধরে “বাংলাদেশে যে যুদ্ধ চলে আসছিল তা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।” ভারতও এর জবাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং তাদের পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তানের হামলা প্রতিহত করে। ভারতের সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে যৌথবাহিনী তৈরি করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ৪ঠা ডিসেম্বর।

**তথ্য সুত্রঃ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও উইকিপিডিয়া।

Comments

comments