ব্রেকিং নিউজ

চীন-ভারত যুদ্ধের ঘনঘটা, যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার দিল্লীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতীয় সামরিক বাহিনী চীন সীমান্তে তাদের যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার করেছে। হিমালয় অঞ্চলের প্রত্যন্ত দোকলাম মালভূমিতে দুই দেশের সামরিক বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থান গ্রহণ করার প্রেক্ষাপটে ভারত এই পদক্ষেপ নিলো।

ভারতের যুদ্ধপ্রস্তুতি সম্পর্কে ব্রিফপ্রাপ্ত একটি সূত্র এ খবর জানিয়েছে। তবে সূত্রটি জানিয়েছে, ভারতের সামরিক অবস্থান জোরদার করা সত্ত্বেও উত্তেজনা বাড়বে বলে মনে হচ্ছে না।

নয়া দিল্লির দু’টি সূত্র এবং সিকিমের একটি সূত্র পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে জানিয়েছে, সামরিক সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। চীন ও ভুটানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দোকলামে চীন একটি রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিলে জুনে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ভুটানের সাথে বিশেষ সম্পর্ক থাকা ভারত ওই নির্মাণ কাজ বন্ধ করার জন্য সেখানে সৈন্য পাঠালে চীন ক্রুদ্ধ হয়। বেইজিং বলে আসছে, দোকলাম নিয়ে ভারতের নাক গলানোর কোনো অধিকার নেই। তারা একতরফাভাবে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশাসন অনড় অবস্থান ব্যক্ত করে জানিয়েছে, ভারতের সীমান্তের কাছে ওই সড়ক নির্মাণ তাদের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করেছে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘সেনাবাহিনী এমন এক অবস্থানে চলে এসেছে যেটাকে বলা যায় ‘যুদ্ধ না হলে শান্তি আসবে না।’ সূত্রটি জানিয়েছে, ইস্টার্ন কমান্ডের সব সৈন্যদলকে এক সপ্তাহ আগে দেয়া নির্দেশে বলা হয়েছে, সৈন্যদেরকে যুদ্ধ শুরু হলে যেভাবে অবস্থান গ্রহণ করতে হবে, সেভাবে অবস্থান নিতে হবে।

সিকিম সেক্টরের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বছরই সাধারণ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ভারতীয় সৈন্যদের যুদ্ধের প্রস্তুতির মতো করে মোতায়েন করা হয়। কিন্তু এবার ইস্টার্ন সেক্টরে সে কাজটি শুরু হয়েছে আগেভাগে।

সূত্রটি জানিয়েছে, সতর্কতার কারণে এমনটা করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে এমনটা করা হয়েছে। সূত্রটি জানায়, অতিরিক্ত কোনো সৈন্য মোতায়েন করা হয়নি। এলাকাটি সুরক্ষিত।

উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলো।

চীন বারবার বলে আসছে, ভারত তার সৈন্য প্রত্যাহার করে না নিলে উত্তেজনা বাড়বে। রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত গ্লোবাল টাইমস চলতি সপ্তাহেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, মোদি যদি অব্যাহতভাবে সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখেন, তবে বেইজিং পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। প্রতিবেশী পাকিস্তানে চীনের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোতে ভারত বেশ ক্ষুব্ধ।

রয়টার্স

Comments

comments