বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা: শাকিল ও রাজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

প্রতিবেদক:

বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর রায়ে হত্যা মামলার আসামী শাকিল ও রাজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আদালত। এছাড়া ময়নাতদন্তে গাফিলতি ও ভুল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় চিকিৎসক ও পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রায় দেন।
রায়ে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে- চারজনের দণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে যে দুজন আপিল করেছিলেন, তারা খালাস পেয়েছেন। আর নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া পলাতক ১১ আসামির ব্যাপারে আদালত কোনো মন্তব্য করেননি। অর্থাৎ তাদের দণ্ড বহালই থাকছে। এই হিসেবে দুই জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৪ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে হাইকোর্টের রায়ে।

২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক। রায়ের এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা।
২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর পুরনো ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় দরজি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে। এ মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ৮ জনকে মৃত্যুদ- ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। বিশ্বজিৎকে হত্যার ঘটনায় ওই রাতে সূত্রাপুর থানায় মামলা করে পুলিশ। পরদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এরপর সাত আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২১ জন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ।  অভিযোগপত্র গ্রহণের পর মামলা চলমান অবস্থায় বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সরকারের সিদ্ধান্তে তা গত জুলাই মাসে পাঠানো হয় দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে। এই মামলায় পুলিশের তদন্ত চলতে থাকার মধ্যেই গণমাধ্যমে যাদের নাম ও ছবি এসেছিল, তাদের একে একে বহিষ্কার করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Comments

comments