বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিমের বাড়ি নিলামে

dalim
প্রতিবেদক: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শরিফুল হক ডালিমের (মেজর ডালিম) বাড়ি নিলামে বিক্রি করে সোনালী ব্যাংক তাদের ঋণ আদায় করেছে। ঋণের টাকা সমন্বয়ের পর অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শরিফুল হক ডালিমকে ১৯৮৭ সালের ২৬ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানে পাঁচ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের শাসনামলে ওই প্লটটি সোনালী ব্যাংক, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট শাখায় বন্ধক রেখে এক কোটি ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তৎকালীন সরকারের বরাদ্দ দেওয়া ওই প্লটে বাড়ি নির্মাণ করেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার শুরু হলে ডালিমকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। বিচারে ডালিমসহ বিপথগামী ১২ জন সেনাসদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এদের মধ্যে ২০১০ সালের জানুয়ারিতে পাঁচ খুনিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। ডালিমসহ সাজাপ্রাপ্ত বাকি ছয় খুনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে রয়েছে। এদের মধ্যে আজিজ পাশা জিম্বাবুইয়ে মারা যান।

সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংক তাদের ঋণ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ঋণের এক কোটি ১০ লাখ টাকা আদায়ের উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসাসি মেজর (বহিষ্কার) ডালিমের গুলশানের প্লটসহ বাড়ি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, অর্থ ঋণ আদালতের নির্দেশনায় সোনালী ব্যাংক বাড়িটি এক কোটি ৭৭ লাখ টাকা বিক্রি করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সোনালী ব্যাংক তাদের পাওনা ঋণের এক কোটি ১০ লাখ টাকা বুঝে নেয়। ঋণ পরিশোধের পর সোনালী ব্যাংক ক্যান্টনমেন্ট শাখায় ৬৬ লাখ ৯৪ হাজার ২৮ টাকা অবিশিষ্ট রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অতিরিক্ত ওই টাকা ক্রিমিনাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট ১৮৯৮-এর ৮৮ এবং ৮৯ ধারা অনুযায়ী ওই অর্থ আইনানুগভাবে বাজেয়াপ্ত করে সান্ড্রি ডিপোজিটে স্থানান্তরের মাধ্যমে সরকারি তহবিলে জমা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এরই মধ্যে সোনালী ব্যাংক তাদের আইনজীবীকে চিঠি দিয়েছে।

এছাড়াও বিষয়টি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে অবহিত করার জন্য এ্ররই মধ্যে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) রাজধানীর সাত মসজিদ রোডে ১০ কাঠার এবং মোহাম্মদপুরে চার কাঠার দুটি প্লটের মালিক বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শরিফুল হক ডালিম।

জানা গেছে তিনি আফ্রিকায় বসবাস করছেন। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল ওয়ারেন্ট রয়েছে। 

Comments

comments