ব্রেকিং নিউজ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিন কিলোমিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রয় বন্ধের পরামর্শ

তামাক
প্রতিবেদক:
ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তামাকজাত পণ্যের প্রতি নিরুৎসাহিত করা জন্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিন কিলোমিটারের মধ্যে বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্য বিক্রয় বন্ধ করার পরামর্শ দিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মোঃ মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, এম পি।
তিনি বলেন, স্কুল এবং কলেজের নিকটবর্তী জায়গাগুলোতে বিড়ি-সিগারেটের পর্যাপ্ততার কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা সহজেই এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিড়ি-সিগারেটের প্রতি আসক্তি বন্ধ করলে যেকোন ধরণের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে থাকা সম্ভব। 
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০১৭ উপলক্ষ্যে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস্ এবং ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় আজ ৩০ মে ২০১৭ মঙ্গলবার ধানমন্ডিস্থ ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোঃ শাহ আলমগীর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখ সালাহ্উদ্দিন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস-এর গ্রান্টস ম্যানেজার ডাঃ মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি কাজী রফিকুল আলম। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহকারী পরিচালক মোখলেছুর রহমান।
বক্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য গণমাধ্যম কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান। 
দেশের উন্নয়নে তামাক একটি অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম হুমকি তামাক উৎপাদন। বর্তমানে শতকরা ৪৩ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তামাক গ্রহণ করছে। 
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ইকবাল মাসুদ উল্লেখ করেন, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে চিকিৎসা ব্যয় বহুগুনে বেড়ে গেছে যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিশাল বোঝা। পৃথিবীর অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মত বাংলাদেশেও অসংক্রামক রোগের প্রকেপা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি পরিসংখ্যান হতে জানা যায় যে, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট মৃত্যুর শতকরা ২৭.৩ ভাগ হয় অসংক্রামক রোগ যেমন- ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসতন্ত্রের অসুখ ও ক্যান্সার জনিত কারণে। অসংক্রামক রোগের জন্য যে আচরণসমূহকেঝুঁকিপূর্ণ বলে গন্য করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো তামাকের (সিগারেট, বিড়ি, পান, জর্দ্দা, গুল) ব্যবহার। ইউএস সার্জন জেনারেল: ডিপার্টমেন্টট অব পাবলিক হেলথ্ এন্ড হিউম্যান সার্ভিস এর এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে ধূমপানের ধোঁয়ায় প্রায় ৭০০০ ধরনে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ থাকে যার মধ্যে ৬৯টি ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। এছাড়া সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবেও দেশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষ (ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ ঐবধষঃয গবঃৎরপং ধহফ ঊাধষঁধঃরড়হ, ওঐগঊ, ২০১৩) মানুষ অকালে মুত্যুবরণ করে। তামাকখাত থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায় তামাক ব্যবহারের কারণে অসুস্থ রোগীর চিকিৎসায় সরকারকে স্বাস্থ্যখাতে তার দ্বিগুণ ব্যয় করতে হয়। এভাবে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশ। তামাকজনিত ক্ষয়ক্ষতি হিসেব করে দেখা গেছে, প্রতিবছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে তামাকের কারণে। 
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অব টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) বাস্তবায়ন ব্যতিরেকে এসডিজি’র তৃতীয় লক্ষমাত্রা ‘স্বাস্থ্যসম্মত জীবনমান নিশ্চিতকরণ এবং সব বয়সের সকলের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা’ অর্জন সম্ভব নয়। আর এসডিজি’র অন্যতম লক্ষমাত্রা (১৬টি) অর্জনে তামাজ একটা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা। তামাকজনিত মৃত্যু ও ক্ষয়মতি মোকাবেলা না করতে পারলেও এসডিজি’র তৃতীয় লক্ষমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়।

Comments

comments