ব্রেকিং নিউজ

নতুন আইনে ভ্যাট হার হচ্ছে ১২ শতাংশ!

VAT - niebieskie to

প্রতিবেদক:
আগামী জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে নামিয়ে ১২ শতাংশ করা হচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। অর্থমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। ভ্যাটের হার কমানোর বিষযে অর্থমন্ত্রী ইতিমধ্যে ঘোষনা দিয়েছেন। তবে এ হার কত হবে তা তিনি প্রকাশ করেন নি।

এদিকে গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভ্যাটের হার তিন শতাংশ কমানো হলে রাজস্ব আদায় কমবে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। ভ্যাটের ক্ষেত্র বাড়ানোর মাধ্যমে এ ক্ষতি পূরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

গতকাল ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূতের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ভ্যাট আইন সহনীয় ও বাস্তবসম্মত হবে। এতে ভোক্তাদের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বেনা। আমি সবাইকে এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দিতে চাই, নতুন ভ্যাট আইনে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না এবং ভোক্তারা ভোগান্তিতেও পড়বেন না। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ বলেন, নতুন ভ্যাট আইন চালু হলেও কিছু কিছু পণ্যে সম্পূরক শুল্ক থাকবে। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতেই এই ব্যবস্থা রাখা হবে।

ভ্যাটের হার কমানো হলে সরকার ওই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিকল্প চিন্তাও করছে। বিশেষত সিগারেট, মোবাইল ফোনসহ বড় অঙ্কের ভ্যাট প্রদানকারী খাত হতে কমে যাওয়া রাজস্ব বাড়তি সম্পূরক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে আদায়ের চিন্তা করা হচ্ছে।

নতুন ভ্যাট আইনে ভ্যাটের হার সাত থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে রাখার দাবি রয়েছে ব্যবসায়ীদের। এছাড়া যারা উপকরণ কর রেয়াত নিতে ব্যর্থ হবে, তাদের জন্য হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট আরোপেরও প্রস্তাব ছিল তাদের। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য প্যাকেজ পদ্ধতির ভ্যাট (বার্ষিক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ) প্রদানের দাবিও তাদের। ফলে ভ্যাটের হার ১২ শতাংশ করা হলেও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া কী হবে তা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে সরকারকে।

সমপ্রতি বাজেট নিয়ে এনবিআর ও এফবিসিসিআইয়ের এক আলোচনায় এ ইস্যুটি নিয়ে হট্টগোল করেন ব্যবসায়ী নেতারা। ইতিমধ্যে এফবিসিসিআইয়েও পটপরিবর্তন হয়েছে। সংগঠনের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সংগঠনটির নতুন সভাপতি হয়েছে। তার নেতৃত্বাধীন কমিটি সমপ্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। কেবল ভ্যাট হার কমানো হলেও অন্যান্য ইস্যুতে তাদের দাবি আদায়ের বিষয়ে তাদের অবস্থান কী হবে, তাও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

 ২০১২ সালে সরকার নতুন ভ্যাট আইনটি পাশ করে। এর তিন বছর পর ২০১৫ সাল থেকে আইনটি কার্যকর করার কথা ছিল। নতুন আইনে সব ধরণের পণ্য ও সেবাকে ঢালাওভাবে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাটের আওতায় আনা হয়। সঙ্কুচিত ভিত্তিমূল্য ও ট্যারিফ মূল্যের ভিত্তিতে হ্রাসকৃত হারে ভ্যাট দেয়ার সুযোগও বাতিল করা হয়। বাতিল করা হয়, প্যাকেজ পদ্ধতির ভ্যাট ব্যবস্থাও। ভ্যাট আদায়কারী কর্মকর্তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বও বাড়ানো হয়। এসব বিষয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তি ছিল। এসব ইস্যু সমাধানের লক্ষ্যে ২০১৪ সালে সরকার এনবিআর ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। ওই কমিটি ভ্যাটের ভিন্ন ভিন্ন হার নির্ধারণসহ সাত দফা সুপারিশ দিলেও কার্যত তা আমলে নেওয়া হয় নি বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। সমাধানের উপায় খুঁজতে দফায় দফায় বৈঠক হয় এনবিআর ও ব্যবসায়ীদের।
 

Comments

comments