অবশষে সরানো হল সুপ্রিম কোর্টের সামনের গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য

সম
প্রতিবেদক:
অবশেষে সরিয়ে নেওয়া হলো সুপ্রিমকোর্ট চত্বরের আলোচিত গ্রিক দেবীর সেই ভাস্কর্য। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভাস্কর্যটি সরানোর কাজ শুরু হয়। ভাস্কর্যটির কারিগর শিল্পী মৃণাল হকের তত্ত্বাবধানে রাত ১টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত এটি অপসারণের কাজ চলছিল। এ সময় সুপ্রিমকোর্টের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য নিয়োজিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের বন্ধ ফটকের বাইরে থেকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বেশ কয়েকজন শ্রমিককে ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজে নিয়োজিত দেখা যায়।

এ সময় পাশে কয়েকটি ছোট ট্রাক ও গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে কাদের তত্ত্বাবধানে ভাস্কর্যটি ভাঙা হচ্ছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

ভাস্কর্যটি সরানোর খবর পেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সামনে চলে আসেন এর ভাস্কর মৃণাল হক। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

সুটপ্রম

মৃণাল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘এরপর নির্দেশ আসবে, ‘অপরাজেয় বাংলা’ ভাঙা হোক, ‘রাজু ভাস্কর্য’ ভাঙা হোক, ‘ঘোড়ার গাড়ি’ ভাঙা হোক.. মাফ চাই। আমি কিছু বলতে চাই না। আমার হাত-পা বাঁধা।’’

সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে স্থাপন করা এই ভাস্কর্য নিয়ে দেশে ইসলামিক দলগুলো বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচি পালন করেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজেও ভাস্কর্যটি অপসারণ করার জন্য কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
রোমান যুগের ন্যায়বিচারের প্রতীক ‘লেডি জাস্টিস’র আদলে একটি ভাস্কর্য কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয়।

এরপর থেকে হেফাজতসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠন তার বিরোধিতায় নামে। হেফাজত ওই ভাস্কর্য সরানোর দাবি জানিয়ে সরকারকে ৫ মে মতিঝিলে ফের সমাবেশের হুমকি দেয়। ওলামা লীগও তা অপসারণের দাবি জানায়।

গত ১১ এপ্রিল হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী নেতৃত্বাধীন এক দল ওলামার সঙ্গে গণভবনে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাস্কর্যটি সরাতে পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য পাশে রেখে ঈদের নামাজ আদায়ের ইস্যুটিকে সামনে এনে ‘মূর্তি’ সরানোর দাবি জানান তারা।

Comments

comments