নব নিযুক্ত নির্বাচন কমিশনারদের শপথ গ্রহণ, দলবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিইসি’র হুঁসিয়ারী

নূরুল

প্রতিবেদক:

শপথ নিয়েছেন নব নিযুক্ত নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদাসহ অপর চার কমিশনার। আজ বিকেলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে এই শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ দায়িত্ব পালনে তিনিসহ কমিশন সচেষ্ট থাকবে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পথে কোনো দলবাজ কর্মকর্তা বাঁধা হয়ে দাঁড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বুধবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেজ লাউঞ্জে শপথ গ্রহণের পর নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জাবাবে নতুন সিইসি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ দায়িত্ব পালনে তিনিসহ কমিশন সচেষ্ট থাকবে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পথে কোনো দলবাজ কর্মকর্তা বাঁধা হয়ে দাঁড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’। তিনি বলেন, ‘কেবল বিএনপিই নয়, ছোট-বড় সকল নিবন্ধিত দলের অংশগ্রহণে যাতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় সে জন্য আমরা সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবো।’

বিকাল চারটা ২২ মিনিটে সিইসি ও নতুন কমিশনাররা নির্বাচন ভবনে পৌঁছালে ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা শেষে পাঁচ কমিশনারই নিজ নিজ দফতরে যান। একটু পরই চার কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সিইসির কক্ষে যান। এরপর তারা এক সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে যোগ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সিইসি বলেন, শপথ গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের ওপর আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। আমাদের কার্যক্রমের প্রধান পাথেয় সংবিধান, সংবিধানের অধীনে প্রণীত বিভিন্ন আইন, আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা, নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা এবং নির্বাহী আদেশসমূহ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অনুসরণীয় হবে ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই থেকে ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১১টি নির্বাচন কমিশনের রেখে যাওয়া অভিজ্ঞতা সম্বলিত দিক নির্দেশনা। ১৯৭২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪৫ বছর ধরে ধাপে ধাপে নির্বাচন কমিশন প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের একজন সচিবের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের রয়েছে একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামো এবং সুদক্ষ জনবল।’

সিইসি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের প্রধান তিনটি দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রপতি পদের ও সংসদের নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, অনুরূপ নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালনকরা এবং সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বও নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত। দেশের সকল ভোটারকে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর অর্পিত। অভিজ্ঞ এবং নিষ্ঠাবান নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে নিয়ে এ সকল দায়িত্বপালনে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

 

 

Comments

comments