ব্রেকিং নিউজ

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা মারিয়া হলেন ‘ওমেন অব দ্য ইয়ার’

%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be

দ্য বিডি এক্সপ্রেস ডেস্কঃ

পর্তুগিজ মানবহিতৈষী মারিয়া কনসিকাওকে ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে বিশ্বখ্যাত জিকিউ ম্যাগাজিনের পর্তুগিজ  
সংস্করণ। তিনি মারিয়া ক্রিস্টিনা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত বস্তির শিশুদের নিয়ে কাজ করে।
ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, কনসিকাও এ পুরস্কার নিজের পালক মা মারিয়া ক্রিস্টিনাকে উৎসর্গ করেছেন। ঢাকার গাওয়াইর বস্তির ১৭২ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে তার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনটি।
পুরুষদের ফ্যাশন, সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল ভিত্তিক সাময়িকী জিকিউ সাধারণত ‘মেন অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার দিয়ে থাকে। তবে মারিয়া ক্রিস্টিনা ফাউন্ডেশনের এক বিবৃতিতে এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, মারিয়ার অর্জন নিয়ে জিকিউ পর্তুগাল এতটাই অভিভূত যে, সাময়িকীটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তারা ‘মেন অব দ্য ইয়ার’ প্রদানের বদলে একজন নারীকে সম্মানিত করেছে।
এক সময় ইউএই এয়ারলাইনে বিমানবালা হিসেবে কাজ করতেন মারিয়া দ্য কনসিকাও। এ সময় বাংলাদেশের বস্তিগুলোতে চরম দারিদ্র্য প্রত্যক্ষ করেন তিনি। এরপরই ২০০৫ সালে মারিয়া ক্রিস্টিনা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৩ সালে নিজের চাকরিসূত্রে প্রথম বাংলাদেশে আসেন তিনি। তার ভাষ্য, ওই সময় তিনি যা দেখেছিলেন তা কখনও ভুলতে পারেননি। এক মাস পর তিনি সুবিধাবঞ্চিত মানুষজনকে সাহায্য করার অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
২০০৫ সালের জুলাইয়ে পরিবার, সহকর্মী ও বন্ধুদের সহায়তায় মারিয়া একটি দাতব্য প্রকল্প চালু করেন। প্রথমে এক কক্ষের স্কুল দিয়ে শুরু। এর পর থেকে তিনি বাংলাদেশে বহু লোকহিতকর প্রকল্প চালিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান।
ফাউন্ডেশনের অর্থায়ন অব্যাহত রাখতে সাম্প্রতিক কয়েক বছরে তিনি নিজেও অনেক কাজ করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো প্রথম পর্তুগিজ নারী হিসেবে এভারেস্ট পর্বতমালা জয় করা। তিনি ম্যারাথন দৌড়ে তিনটি রেকর্ডধারী। তার ঝুলিতে আছে ছয়টি গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসও। এ বছরের সেপ্টেম্বরেও তিনি ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাত্রাধিক জোয়ারের দরুন ওই চেষ্টায় ক্ষান্ত দিতে হয়। এ সবই তিনি করেছিলেন মারিয়া ক্রিস্টিনা ফাউন্ডেশনের জন্য অর্থ সংগ্রহে।

Comments

comments