ব্রেকিং নিউজ

বাণিজ্যিকভিত্তিতে কুমির চাষ বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব

kumir

দ্য বিডি এক্সপ্রেস ডটকমঃ

ভালুকায় বাণিজ্যিকভিত্তিতে ১২ বছর ধরে উভচর সরীসৃপ প্রাণী কুমির চাষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে উৎপাদিত কুমিরের চামড়া বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে। এবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মাংস রপ্তানির ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে রপ্তানি বাণিজ্যে কুমিরের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

 ময়মনসিংহের ভালুকায় রেপটাইলস ফার্ম ২০১০ সালে খামারের ৬৯টি কুমির জার্মানে রপ্তানি করা হয়। বাকি ২৩১টি কুমির ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির প্রক্রিয়া চালানো হয়। জার্মানে ৭০ লাখ টাকায় ৬৯টি কুমির বিক্রির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি লাভের মুখ দেখে। একই সঙ্গে কুমির রপ্তানির দেশ হিসাবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নাম লিপিবদ্ধ হয়। 
ভালুকা উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে ভরাডোবা-সাগরদিঘী সড়কের হাতীবেড় গ্রামে রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড কুমির চাষ ও রপ্তানি করছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালের ৫ মে খামার প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয় এবং আর্ন্তজাতিক সংস্থা সিআইটিইএসের অনুমোদন নিয়ে ডিসেম্বর মাসে মালয়েশিয়ার সারওয়াত থেকে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫টি পুরুষ এবং ৬০টি মাদি কুমির আমদানি করা হয়। ২২ ডিসেম্বর কুমিরগুলো খামারে অবমুক্ত করা হয়। তখন আমদানি করা কুমিরগুলোর বয়স ১০-১৪ বছর ও ৭-১২ ফুট লম্বা ছিল। ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে খামারের প্রথম দুটি কুমির ডিম দেয়া শুরু করে । ক্রমান্বয়ে বংশ বিস্তারের মাধ্যমে খামারে প্রায় ৮০০ কুমির হয়। সরকারের কাছ থেকে কুমির রপ্তানির চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসে জার্মানের হাইডেল বার্ড ইউনিভার্সিটি কুমিরের শরীরের অংশবিশেষ থেকে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধক মেডিসিন আবিষ্কারের জন্য রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেড থেকে কুমির রপ্তানি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। ২০১০ সালে খামারের ৬৯টি কুমির জার্মানে রপ্তানি করা হয়। বাকি ২৩১টি কুমির ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির প্রক্রিয়া চালানো হয়। জার্মানে ৭০ লাখ টাকায় ৬৯টি কুমির বিক্রির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি লাভের মুখ দেখে। একই সঙ্গে কুমির রপ্তানির দেশ হিসাবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নাম লিপিবদ্ধ হয়। 
কুমিরের গড় আয়ু ১০০ বছর। আমদানীকৃত বড় কুমিরের মধ্যে বর্তমানে ২৫টি পুরুষ। ডিম দেয়ার মতো বড় কুমিরের প্রতি মাসে দুই টন মাংস খাবার হিসেবে দেয়া হয়। বন্য অবস্থায় ১০-১২ বছর বয়সে এবং ফার্মে ছয়-সাত বছর বয়সে একটি স্ত্রী কুমির বছরে একবার (এপ্রিল-মে) ৪০ থেকে ৫০টি করে ডিম দেয়। ডিম ফুটতে ৭০ থেকে ৮০ দিন সময় লাগে। এখানেক কৃত্রিম উপায়ে ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে খামারে ৪০টি পুকুর ও ১০টি হ্যাচারি রয়েছে। ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ার সারওয়াত কুমির ফার্ম থেকে দেড় কোটি টাকা দিয়ে আরও ৪০টি ব্রিডার কুমির আনা হয়েছে। সব মিলে বর্তমানে খামারে ৬০টি মা কুমির রয়েছে। এ ছাড়া খামারে উৎপাদিত ছোট-বড় মিলে প্রায় দুই হাজার কুমির রয়েছে। এসব কুমিরের দৈর্ঘ্য তিন থেকে সাড়ে ছয় ফুট পর্যন্ত লম্বা। 
কুমিরের কোনো কিছুই ফেলনা নয়। চামড়া, মাংস, দাঁত ও হাড় বিপণন করা যায়। চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার মার্কিন ডলারের কুমিরের মাংসের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকক, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনসহ অর্ধশত দেশে কুমির চাষ হচ্ছে। রেপটাইলস ফার্ম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. আবু সাইম মোহাম্মদ আরিফ জানান, ২০০৪ সালে তারা দেশে প্রথম কুমির প্রজনন শুরু করেন। ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে তারা কুমিরের চামড়া রপ্তানি শুরু করেন। জাপানে ২০১৪ সালে ৪৩০ ও ২০১৫ সালে ৪০০ চামড়া রপ্তানি হয়েছে। এর পরিমাণ বাড়িয়ে বছরে দুই হাজার করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপশি খুব শিগগিরই মাংস রপ্তানির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। শুরুতে খামারে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে দেয়া হলেও এখন প্রজননের স্বার্থে দেয়া হয় না। 

Comments

comments