ব্রেকিং নিউজ

এবিএম মূসা ছিলেন সাংবাদিকতার বাতিঘর

abm-musa

প্রতিবেদকঃ

সাংবাদিক এবিএম মূসার স্মরণসভায় বক্তারা তাঁকে সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার বাতিঘর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁরা বলেন, বস্তুনিষ্ঠ, সৎ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মাধ্যমে এবিএম মূসা দেশের সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রকে উচ্চমাত্রায় আসীন করে গেছেন। 
বক্তারা বলেছেন, এবিএম মূসা ছিলেন সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথিকৃত। ছিলেন নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার বাতিঘর। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে সাংবাদিকতাকে তিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সামরিক সরকারের সময়েও তিনি বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সত্য সংবাদ প্রকাশ করে গেছেন। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান তথ্য কমিশনার গোলাম রহমান। প্রবীণ শিক্ষাবিদ প্রফেসর আনিসুজ্জামান সম্পাদিত ৩২০ পৃষ্ঠার স্মারকগ্রন্থটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এবিএম মূসা-সেতারা মূসা ফাউন্ডেশন।  অনুষ্ঠানে সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, পাছে লোকে কিছু বলে তা নিয়ে কখনোই ভ্রূক্ষেপ করতেন না মূসা ভাই। সহজভাবে অকপটে সত্যকে উচ্চারণ করেছেন সাহসের সঙ্গে। পত্রিকার শিরোনাম লেখার ক্ষেত্রে তার মুন্সিয়ানা ছিল উল্লেখ করে গোলাম সারওয়ার বলেন, আমি বলব, তীক্ষ্ণ হেডিং তৈরির দিশারী ছিলেন মূসা ভাই। এবিএম মূসার স্মৃতিচারণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ. আ. ম. স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা সংবাদ মাধ্যমের কাজ। এটা সংবাদ মাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব। এবিএম মূসা ঠিক এই কাজটি করে সাংবাদিকতায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়েছেন। তিনি বলেন,  এই আপসহীন সাংবাদিকের স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ায় তরুণ প্রজন্মের সাংবাদিকরা তাঁর কর্মজীবন সম্পর্কে আরো বেশি জানতে পারবে। এতে নতুনরা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে আরো উৎসাহিত হবে। হলিডে পত্রিকার সম্পাদক সৈয়দ কামালউদ্দিন বলেন, সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা সম্পর্কে মূসা ভাই আমাদের যা শিখিয়ে গেছেন, এখন সেটা আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হয়। আমরা তার কাছ থেকে শিখেছি, কীভাবে সত্যকে, মানুষকে জানাতে হয়। নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মূসা ভাই ছিলেন, আমাদের পথ প্রদর্শক ও শিক্ষক। তিনি ছিলেন, আপসহীন, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। সামরিক সরকারের সময়ে সাহসের সঙ্গে সত্য সংবাদ পরিবেশনায় তার দূরদর্শী বুদ্ধিমত্তা বলে শেষ করা যাবে না। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, মূসা ভাই ছিলেন, ব্যবহারিক সাংবাদিকতার শিক্ষক। তিনি সাংবাদিক তৈরি করেছেন হাতে-কলমে শিখিয়ে। সভাপতির বক্তব্যে প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, এবিএম মূসার বর্ণাঢ্য জীবন-কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পাথেয় হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, আমি ৩৮-৪০ বছর যাবৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি। সেই হিসেবে আমি বলব, এই সাংবাদিকতার পেশায় যারা রয়েছেন, তাদের আরেকটু বেশি প্রফেশনাল কাজ-কর্ম করার চেষ্টা করতে হবে। সাংবাদিক কবি হাসান হাফিজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, প্রবীণ ক্রীড়া সাংবাদিক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, সাংবাদিক ফখরুদ্দিন, রয়টার্সের আলোকচিত্রী এবিএম রফিকুর রহমান, বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমা হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস, স্মারকগ্রন্থের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাওলা ব্রাদার্সের প্রকাশক আহমেদ মকসুদুল হক, প্রয়াত সাংবাদিক এবিএম মূসার মেয়ে সাংবাদিক পারভীন সুলতানা ঝুমা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ও এবিএম মূসার স্ত্রী সেতারা মূসাও উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments