ব্রেকিং নিউজ

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি শহীদ কাদরী আর নেই

kadri-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস ডটকমঃ

নিউইয়র্ক থেকে : বাংলা ভাষায় বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান কবি, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি শহীদ কাদরী আর নেই। ৭৪ বছর বয়সে ২৮ আগস্ট রোববার নিউইয়র্ক সময় সকাল ৭টায়  নিউইয়র্ক সিটি সংলগ্ন নর্থ শোর ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহে—–রাজেউন)। গত ২১ আগস্ট তাকে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি হাসপাতালের আইসিইউতেই ছিলেন।
কবি পত্নী নীরা কাদরী হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর এ সংবাদ নিশ্চিত করেছেন।
নিউমোনিয়া, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, তাপমাত্রা চরমে উঠা, ব্লাড-ইনফেকশন হওয়ায় মলের সাথে রক্ত যাওয়াসহ জটিল কিছু রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ২১ আগস্ট ভোর রাতে তাকে এই হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। এর ৪দিন পর তার জ্ঞান ফিরলে তাকে খাবার দেয়া হয়। সে সময় তিনি তার স্ত্রীর সাথে এবং ভিজিটরদের সাথে কথাও বলেন। তবে তা ছিল অসংলগ্ন। 
তার মৃত্যুর সংবাদ জানার পর প্রবাসের কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা হাসপাতালে ছুটে যান। তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট জন্মগ্রহণকারি এই কবি তার জন্মের মাসেই মারা গেলেন। তিনি ১৯৮৫ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী জীবন-যাপন করছিলেন।
বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কারের পর বছর দুয়েক আগে তাকে একুশে পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
কবি এক দশকেরও অধিক সময় যাবত কিডনি রোগে ভুগছিলেন। সপ্তাহে দুদিন তাকে হাসপাতালে গিয়ে ডায়ালাইসিস করতে হতো। ৫ বছর যাবত তিনি হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতেন।
কবির প্রথম স্ত্রী নাজমুন্নেসা পিয়ারি থাকেন জার্মানীতে। দ্বিতীয় স্ত্রী ডানা ইসলাম মারা গেছেন। তৃতীয় স্ত্রী নীরা কাদরীর ছিলেন কবির নিত্য সঙ্গী। মৃত্যুর সময়েও তিনি তার পাশেই ছিলেন।

বাংলা ভাষায় বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান এই কবি গত ২১ আগস্ট রোববার রাত সোয়া ৩টায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে যাওয়ার পরই তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

শহীদ কাদরী (জন্ম : ১৪ আগস্ট, ১৯৪২) বাংলাদেশের একজন কবি ও লেখক। তিনি ১৯৪৭-পরবর্তীকালের বাংলা সংস্কৃতির বিখ্যাত কবিদের একজন, যিনি নাগরিক জীবন-সম্পর্কিত শব্দ চয়ন করে নাগরিকতা ও আধুনিকতাবোধের সূচনা করে বাংলা কবিতায় সজীব বাতাস বইয়ে দিয়েছেন।

তিনি আধুনিক নাগরিক জীবনের প্রাত্যহিক যন্ত্রণা ও ক্লান্তির অভিজ্ঞতাকে কবিতায় রূপ দিয়েছেন। ভাষা, ভঙ্গি ও বক্তব্যের তীক্ষ্ণ শাণিত রূপ তার কবিতাকে বৈশিষ্ট্য দান করেছে। শহর এবং তার সভ্যতার বিকারকে শহীদ কাদরী ব্যবহার করেছেন তার কাব্যে। তার কবিতায় অনুভূতির গভীরতা, চিন্তার সুক্ষ্মতা ও রূপগত পরিচর্যার পরিচয় সুস্পষ্ট।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো- উত্তরাধিকার (১৯৬৭), তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা (১৯৭৪), কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই ও আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও (২০০৯)।নিউইয়র্ক অনলাইন

Comments

comments