ব্রেকিং নিউজ

তুরস্কে সেক্যুলারদের ব্যার্থ অভ্যুত্থান!

mushfiq34

দ্য বিডি এক্সপ্রেস ডেস্ক: তুরস্কের ক্ষমতাধর সেনাবাহিনী ইসলামপন্হী ও তুর্কি জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে রাতের অন্ধকারে রাজপথে ট্যাংক নামিয়ে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করার পরিকণ্পনা করে। তুর্কি জনগনের প্রবল প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের উদ্যোগ বেস্তে যায়। সেনাবাহিনীর যে গ্রুপটি ব্যার্থ অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত ছিল তারা মূলত আমেরিকা ও ইসরাইলের কট্টর সমরর্থক বলে পরিচিত। তারা যুক্তরাষ্টে নির্বাসিত বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুসারি।ষড়যন্ত্রকারীরা হলেন থার্ড আর্মির কমান্ডার জেনারেল এরদাল ওজতুর্ক এবং সেকেন্ড আর্মির কমান্ডার জেনারেল আদেম হুদুতি। ক্যু সফল হলে জেনারেল এরদাল ওজতুর্ক   হতেন প্রধান সামরিক আইন প্রসাসক ও সামরিক জান্তা প্রধান। অভ্যুত্থানের মূল পরিকল্পনাকারী সন্দেহভাজন জেনারেল আকিন ওজতুর্ক ইহুদিবাদী ইসরাইলে সামরিক অ্যাটাচি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেনারেল ওজর্তুক ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তুরস্কের তেল আবিব দূতাবাসে সামরিক অ্যাটাচি হিসবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তুর্কি বিমান বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তুর্কি সর্বোচ্চ সামরিক পরিষদে তার সদস্যপদ বজায় রেখেছিলেন তিনি। অভ্যুত্থানের আগে তাকে দায়িত্বশীল সর্বোচ্ছ সামরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হতো। তিনি ন্যাটোর  সামরিক বাহিনীর শীর্ষস্হানীয় কমান্ডারের পদমর্যাদায় দায়িত্বে ছিলেন।জেনারেল ওজতুর্কসহ অন্তত ছয় সন্দেহভাজন জেনারেলকে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আটক করা হয়।১ম বিশ্বযুদ্ধে উসমানীয় খেলাফতের পতনের পর এরদোয়ানের মতো ক্ষমতাশালী শাসক আর তুরস্কের ক্ষমতায় আসেনি।এক সময়ের ‘সেক্যুলার‘ তুরস্ক ধীরে ধীরে পুরো মাত্রায় ইসলামিকরণের দিকে চলে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী এরদোয়ানের পুরোপুরি অনুসারি নয়, অভ্যুত্থান চেষ্টার সুযোগে তাদের সরিয়ে দেয়ার একটি বৈধতাও তিনি পেয়ে গেলেন। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এরদোয়ানের একে পার্টি ইউরোপিয় ইউনিয়নের সদস্যপদ লাভের আশায় যুক্তরাষ্ট ফ্রান্স  জার্মানি ও ইসরাইলের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেন। ইইউ সদস্যপদ লাভের প্রধান শর্ত হলো ইসরাইলকে স্বীকৃতি ও কুর্দিদের সাথে শান্তিচুক্তি সই করা।ইইউর সব শর্ত মেনে নিলেও তুরস্ককে সদস্যপদ দিতে ভেটো প্রয়োগকরে ফ্রান্সসহ আরো কয়েকটি দেশ।এরই মধ্যে সিরিয়ায় আসাদ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইসরাইল ফ্রান্স ও মার্কিন প্ররিকল্পনায় যোগ দেয় তুরস্ক।সিরিয়ার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইসরাইল ও আমেরিকার ফাঁদে পা দিয়ে মারাত্নক ভূল করেন এরদোয়ান। লক্ষ লক্ষ শরনার্থি ঢল সামাল দিতে গিয়ে তুরস্কের অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্হিরতা দিনদিন বাড়তে থাকে। শুরু থেকে রাশিয়া আসাদের পক্ষে অবস্হান নিয়ে ইসরাইল সমর্থিত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে। তুরস্ক ও আমেরিকা রাশিয়ার বিমান হামলার বিরোধিতা করে আইএস জঙ্গিদের পক্ষাবলম্বন করে।আমেরিকার প্ররোচনায় তুরস্ক দুটি রুশ বিমান গুলি ভূপাতিত করে। রুশবিমান ভূপাতিত করার কারণে তুরস্ক ও রাশিয়ার সম্পর্কের চরম আবনতি ঘটে।এই সুযোগে কর্দিরা ইস্তাম্বুলসহ সারাদেশে বেশ কয়েকদফা বোমা হামলা শুরু করে। ভিতরে ভিতরে আমেরিকা ফ্রান্স ও ইসরাইল তুর্কি সেনাবাহিনীতে ফেতেল্লা গুলেনের অনুসারিদেরকে এরদেগানের বিরুদ্ধে সংগঠিত করতে থাকে। এরদোয়ানকে কোনঠাসা করতে পারলেই েমধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও একটি বৃহত্তর কুর্দিরাষ্ট্র প্রতিষ্টা করা সম্ভব হবে  মনে করে পশ্চিমা বিশ্ব।এরদোয়ান ক্ষমতায় থাকলে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর ইসরাইল ও কুর্দিরাষ্ট্র গঠন করা অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।তাছাড়া অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সামরিক সরকারকে দিয়ে রাশিয়া ও ইরানে ফক্সিওয়ার চালানোর কাজটি সহজ হতো।আর এসব দিক বিবেচনা করেই এদোয়ানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে উঠেপড়ে লেগেছে যুক্তরাষ্ট ইসরাইল ও ইউরোপিয় ইউনিয়ন।
আমেরিকা অনেক আগ থেকেই অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের জন্য বেছে নিয়েছিল নির্বাসিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনকে।তুর্কি সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগে গুলেনের অসংখ্যা অনুসারি রয়েছে।ব্যার্থ অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত গুলেনকে সরাসরি অভিযুক্ত করেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। এবং তাকে তুরস্কের কাছে প্রত্যর্পণ করতে আমেরিকান  প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
“এর্দোয়ান বলেন যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের সাথে সম্পর্ক রাখতে  হলে অভিযুক্ত ফেতেল্লা গুলেনকে দ্রুত তুরস্কের নিকট হস্তান্তর করতে হবে?”। 
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে গুলেনের অভ্যুত্থানের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করলেও তুরস্কের চাপের মুখে বলেছে আঙ্করা উপযুক্ত তথ্য প্রমান দেখাতে পারলে বিষয়টি বিবেচনা করবে তারা। ইতিমধ্যে তুরস্ক অভ্যুত্থানের সাথে গুলেনের জড়িত থাকার সকল তথ্য প্রমান আমেরিকার নিকট পাঠিয়েছে।অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রে আমেরিকার জড়িত থাকার আরেকটি বড় প্রমান হলো তুরস্কে আমেরিকার একটি বিমান ঘাঁটি থেকে  অভ্যুত্থানের কয়েকজন সন্দেহভাজন জেনারেলকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে তুরস্কের বিমান বাহিনীর একজন জেনারেল ও অন্য কয়েকজন উচ্ছ পর্যায়ের সেনা কর্মকর্তা। তুরস্কের দৈনিক হুররিয়াত পত্রিকাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে। অভ্যুত্থান চেষ্টার পর থেকে এ পর্যন্ত ৮ হাজার পুলিশ, ৩০ জন গভর্নর এবং ৫২ জন উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৭০ জন অ্যাডমিরাল ও জেনারেল মর্যাদার সামরিক কর্মকর্তা, ৩ হাজার সৈনিক এবং ২ হাজার ৭০০ বিচারককে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, গত বছর ৭ জুনের নির্বাচনের পর কুর্দিদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায়ও ইতি টেনেছেন এরদোয়ান। আর এতে তার প্রতি জাতীয়তাবাদীদের সমর্থনও বেড়েছে। মুশফিকুর রহমান,সাংবাদিক ও কলাম লেখক। 

Comments

comments