নিহত নেতাকর্মীদের স্মরণে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন খালেদা জিয়া

khalada-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস ডটকমঃ

গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের স্মরণে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাঁদলেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের লংবিচ হোটেলে গুম-খুন হওয়া নেতাকর্মীদের স্মরণে বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বক্তব্যের পরে বিগত আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে ইফতার করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
ইফতার মাহফিলে গুম-খুন হওয়া ৪০ নেতাকর্মীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে তাদের হাতে ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন খালেদা জিয়া।

গুম হওয়াদের সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির যারা নিখোঁজ রয়েছে, তারা কীভাবে আছেন, কেমন আছেন- তা আমরা কিছুই জানি না।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আপনারা (গুম হওয়াদের স্বজনরা) আশা করছেন, তারা একদিন ফিরে আসবে; আমরাও সেই আশায় আছি। তারা ফিরে এসে যেমন তাদের মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী, ছেলে-মেয়েদের আবার আদর করবে, ঠিক তেমনিভাবে আমাদের দলে ফিরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিলে আমাদের আপন হয়ে থাকবে।

এ কথা বলার সময় ভারি হয়ে আসে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠ। অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অতিথিরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তখন খালেদা জিয়া বলেন, সন্তান হারানোর ব্যথা আমি বুঝি। আপনারা দেখেছেন আমার সন্তান হারিয়েছি।

ক্রসফায়ারের ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘একটি নিরীহ ছেলেকে কথা নাই বার্তা নেই গুলি করে মেরে ফেলবে। এটা খুবই দুঃখজনক। বিচার ছাড়া কাউকে গুলি করে মেরে ফেলবে, এটা আগে কখনও হয়নি।

বর্তমান সরকারকে জালেম’ আ্যখ্যা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আল্লাহ যেন শিগগির তাদের বিচার করেন। দুনিয়াতেই যেন এদের শাস্তি হয়, যাতে মানুষ দেখে যেতে পারে। ভবিষ্যতে যেন তারা এই ধরনের কাজ করতে সাহস না পায়।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিরোধী দলে আছি। আমাদের প্রত্যেকের ওপর মিথ্যা মামলা, নানা নির্যাতন চলছে। নতুন করে সাঁড়াশি অভিযানে ১৬ হাজার লোককে ধরেছে। এর মধ্যে ৪ হাজার বিএনপি নেতাকর্মী। তাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, বিএনপিকে ধ্বংস করা।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আসুন, আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তারা (গুম হওয়ারা) যেখানেই আছে যেন ভাল থাকে, সুস্থ থাকে।

Comments

comments