ব্রেকিং নিউজ

রোয়ানুর ধ্বংসলীলাঃ উপকূলে প্রাণহানি সম্পদের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি

rohanu-1050-thebdexpress
দ্য বিডি এক্সপ্রেস ডটকমঃ
ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতির বাতাসের শক্তি নিয়ে বাংলাদেশে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুতে উপকূলের সাত জেলায় অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু ও ৫০০ শতাধিক আহত হয়।পাশাপাশি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যপক।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শনিবার ভোর থেকেই ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ঝরে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বাতাসের তীব্রতা। দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সঙ্গে দেখা দেয় জলোচ্ছ্বাস, যাতে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এরপরও ঝড়ের দাপট চলে আরও কয়েক ঘণ্টা।

ঝড়ে চট্টগ্রামে জলোচ্ছ্বাস ও গাছ-ঘর ভেঙে মা-ছেলেসহ ১২ জন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় জোয়ারে ভেসে মা-মেয়েসহ তিনজন ও ফেনীর সোনাগাজীতে এক রাখাল, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় চাপা পড়ে ও নৌকার ধাক্কায় তিনজন, পটুয়াখালীর দশমিনায় এক বৃদ্ধা এবং লক্ষ্মীপুর সদরে গাছ উপড়ে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর কারণে মৃতের এই সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে গত তিন বছরে আঘাত হানা প্রায় একই শক্তির দুই ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ ও ‘মহাসেন’ এ মৃতের সংখ্যাকে। এর কারণ হিসেবে এবার পূর্ণিমায় ভরা জোয়ারের সময় ঝড়ের আঘাতে জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত বছরের জুলাইয়ে প্রায় একই শক্তির ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ এর আঘাতে চার জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। আর ২০১৩ সালের মে মাসে আঘাত হানা একই মাত্রার ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ এ প্রাণ যায় ১২ জনের।

ঝড়ে পাণহানি ঠেকাতে না পারার পিছনে মানুষের দারিদ্র্যের কথাও বলছেন কেউ কেউ।

আবহাওয়াবিদদের দেওয়া তথ্য মতে, প্রায় ৩০০ কিলোমিটার ব্যাসের এই ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম উপকূলের সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, সীতাকুণ্ড ও ফেনী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে উঠে আসে।

এতে পানিতে ভেসে, গাছচাপায় ও ইট পড়ে নগরীসহ জেলায় নারী-শিশুসহ ১২ জনের ‍মৃত্যু হয়। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলাতেই জলোচ্ছ্বাসে মারা গেছেন নারীসহ সাতজন

ঝড়ে তিনজন করে মারা গেছে নোয়াখালী, ভোলা ও কক্সবাজারে। একজন করে মৃত্যু হয়েছে ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও পটুয়াখালীতে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সকালে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পথে জোয়ারে ভেসে মৃত্যু হয় মা-মেয়েসহ তিনজনের।ভোলার তজুমুদ্দিনে ঘর ও গাছচাপায় এক শিশু ও নারী এবং দৌলতখানে ঘরচাপায় আরেক নারীর মৃত্যু হয়। ঝড়ে তজুমুদ্দিনের শশীগঞ্জ বাজারের তিন শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হয়েছে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় ঘর ও দেয়াল চাপা এবং নৌকার ধাক্কায় তিনজনের মৃত্যু হয়।

ঝড়ে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া ও টেকনাফ উপজেলার সাড়ে ২৮ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ কোথাও আংশিক ও কোথাও সর্ম্পূণ ধসে গেছে। এছাড়া শতাধিক বসত ঘর ক্ষতিগ্রস্ত এবং জেলার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে ঝড়ো হাওয়ায় গাছ উপড়ে।ঝড়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় মেঘনার তীরবর্তী তিন উপজেলার অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

ফেনির সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়ার জেলে পাড়া এলাকায় জোয়ারের পানিতে ভেসে এক রাখালের মৃত্যু হয়।ঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে জেলার তিন ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় তিন হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

তিন বছর আগে আঘাত হানা মহাসেনে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছিল বরগুনায়। উপকূলীয় এই জেলায় এবার কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে প্লাবিত হয়েছে প্রায় অর্ধশত গ্রাম।

প্লাবন হয়েছে চাঁদপুর,ঝালকাঠি ও বাগেরহাটেও। চাঁদপুরের  হাইমচর ও মতলব উত্তর উপজেলার ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ।

 

Comments

comments