ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশ নিয়ে ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রে দিল্লিতে তৎপর মোসাদ

isis-thebdexpress

জেরুজালেম অনলাইনের প্রতিবেদন ॥
ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করছে ইসরাইলের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশে সরকার উৎখাত তৎপরতা চালাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে ও কথিত সংখ্যালঘুদের অধিকার আদায়ে ‘সরকার পরিবর্তন এজেন্ডা’ হাতে নিয়েছে বিশ্বের প্রথমশ্রেণীর এই গোয়েন্দা চক্র।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি’র প্রধান মেন্দি সাফাদি ‘এজেন্ডা প্রধান’ হিসেবে কাজ করছেন। ইসরাইলের সাবেক লিকুদ পার্টির সরকারের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ছিলেন সাফাদি। মোসাদের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবেও বিতর্কিত সাফাদি।
সম্প্রতি মেন্দি সাফাদির ভারত সফরের সময় ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তন’ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে জেরুজালেম অনলাইন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। তবে এ খাতে অর্থায়ন করা হচ্ছে কিনা বা কী উপায়ে ও কার সাহায্যে সরকার পরিবর্তন করা হবে সে বিষয়ে কিছুই বলা নেই।
এই পত্রিকার পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়াদিল্লিতে মেন্দি সাফাদির সঙ্গে বৈঠকে ইসরাইলের তিনজন বাংলাদেশী প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক সৃষ্টির এ সাফাদি পদক্ষেপ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। জেরুজালেম অনলাইনে প্রায় প্রতি মাসেই বাংলাদেশবিষয়ক এক বা একাধিক প্রতিবেদন থাকে। ২০১৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৪টি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম- ‘শিগগির ইসরাইলিদের জন্য বাংলাদেশের দরজা খুলবে’। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ‘মুসলিম ব্রাদারহুডের সরকার’। তারা সংখ্যালঘু হিন্দু ও খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংরক্ষণে বর্তমান সরকারকে হটিয়ে এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে যাতে ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরাইলের সাবেক ডেপুটি মন্ত্রী আয়ুব কারা চিফ অব স্টাফ ও সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি’র প্রধান মেন্দি সাফাদি তার সাম্প্রতিক ভারত সফরে এসব বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
জেরুজালেম অনলাইনকে সাফাদি বলেছেন, ‘নির্যাতিত ও জীবন সংকটাপন্ন মানুষের স্বাধীনতার জন্য কাজ করা একটি নৈতিক দায়িত্ব। আর ওসব মানুষের সাহায্যের জন্যই আমি এখানে এসেছি।’ তিনি জানান, বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে সংখ্যালঘুদের ওপর ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ (এথনিক ক্লিনজিং) চলছে। এটা অত্যন্ত বাস্তব ঘটনা, ফিলিস্তিনের মতো বানানো বিষয় না। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যার পাসপোর্টে লেখা থাকে- ‘ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের যে কোনো দেশ ভ্রমণে অনুমোদিত’। মেন্দি সাফাদি বলেন, ‘আমি এ অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই।’
গত ৪ ফেব্র“য়ারি প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, মেন্দি সাফাদির ভারত সফরের সময় বাংলাদেশে মোসাদের প্রতিনিধি শিপন কুমার বসু, রওশন জাহিদ প্রিন্স ও বিবেক দেবের সঙ্গে সাফাদির বৈঠক হয়েছে (প্রতিবেদনে এই তিনজনের পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি)। বৈঠকে বাংলাদেশে নতুন নির্বাচনের ব্যাপারে আলোচনা হয়। নির্বাচনের পর বাংলাদেশ-ইসরাইল সম্পর্ক ‘স্বাভাবিক’ করা হবে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের দিকে আঙুল তুলে বলা হয়, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে ‘ইসলামপন্থীরা’ ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। তারপর থেকেই সংখ্যালঘু হিন্দু ও খ্রিস্টানদের হত্যা করা হচ্ছে। দু’বছর আগে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেয়নি। আর এই সমস্যার সমাধানে মোসাদ ও মেন্দি সাফাদির সহায়তা চেয়েছে পিএনবি পার্টি (সম্ভবত বিএনপিকে ভুল করে পিএনবি লেখা হয়েছে)। তবে বিএনপির কোন নেতা কী ধরনের সাহায্য চেয়েছে সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। মোসাদের প্রভাবশালী এজেন্ট হয়ে মেন্দি সাফাদি তার ভারত সফরের অংশ হিসেবে এ বিষয়ে কাজ করছেন। তবে কী কাজ করছেন বা কীভাবে সরকার পতন ঘটাতে চান সে বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।
গত ৪ মে জেরুজালেম অনলাইনে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। সাম্প্রতিক কালের হিন্দু দর্জি, বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ও সমকামী অধিকারকর্মী হত্যার উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেট (আইএস) তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করছে। আর আইএসের টার্গেট হয়েছে হিন্দু ও খ্রিস্টানরা।
আইএসের ম্যাগাজিন দাবিকে দাবি করা হয়েছে, ‘খলিফার সৈন্যরা বাংলায় তাদের অ্যাকশন চালিয়ে যাবে। এছাড়া ইসলামী রাষ্ট্রের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশে আঞ্চলিক নেতাও মনোনয়ন দেবে আইএস।’ যুগান্তরে/আমাদের সময়

Comments

comments