ব্রেকিং নিউজ

সাদিক খান কী ব্রিটেনের ভবিষ্যৎ নেতা হচ্ছেন?

sadik khan-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস ডটকমঃ

প্রথম কোনো মুসলমান হিসাবে লন্ডনের নতুন মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা সাদিক খান। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই নেতা শুধু লন্ডনই নয়, ইউরোপের কোনো রাজধানী শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র।

মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সবাইকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম মুসলিম মেয়র হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন লেবার পার্টির প্রার্থী সাদিক খান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ টোরি দলের জ্যাক গোল্ডস্মিথকে ১৩.৬ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন তিনি।

লন্ডনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পরই লেবার পার্টির সিনিয়র নেতা জেরেমি করবিনের এক হাত নিলেন মেয়র সাদিক আমান খান। নতুন মেয়রের সাথে করবিনের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হচ্ছে।

যদিও লেবার পার্টির সাবেক সিনিয়র নেতা ও করবিনের পূর্বসূরী অ্যাডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড লন্ডনের সাউথওয়াক ক্যাথেড্রালে নতুন মেয়র সাদিক খানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়েছেন লেবার পার্টির নতুন নেতা জেরেমি করবিন।
অবশ্য লেবার পার্টির একটি সুত্র দাবি করেছে, শনিবার সকালে মেয়র নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর করবিন সাদিক খানের সাথে ব্যক্তিগত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।

তবে একসাথে পোজ দেয়া দুজনের অভিনন্দনমূলক কোনো ছবি গণমাধ্যমে না আসায় লেবার পার্টির এই দুই নেতার মধ্যে বিভাজন নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয়।

সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নতুন মেয়র হিসেবে লন্ডনের সাউথওয়াক ক্যাথড্রালে সাদিক খান যখন আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করছিলেন, তখন জেরেমি করবিন পাঁচ মাইল দূরের আইলিংটনের বাড়ি থেকে কোথাও যাওয়ার জন্য বের হচ্ছিলেন।

করবিন লেবার পার্টির প্রধান হলে সাদিক খান এখন দলটির সবচেয়ে বড় নির্বাচিত নেতা।

মেয়র সাদিক খান করবিনের নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে বলেন যে, ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা ছাড়া লেবার পার্টি কখনোই সাধারণ নির্বাচনে জিততে পারবে না।

বামঘেঁষা পত্রিকা অবজার্ভারে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেছিলেন, যতক্ষণ না আমরা সকল ভোটারের কাছে পৌঁছাতে পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কখনোই সরকার গঠন করতে পারব না।’
তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র তার নিজের দলের কর্মীদেরকে নয়; লেবার পার্টিকে এমন একটি বড় তাঁবু হতে হবে যা প্রত্যেককে তার ছত্রছায়ায় আকর্ষণ করবে। লন্ডনে যেমনটা ঘটেছে, তেমনিভাবে সাধারণ নির্বাচনে জয় পেতে শুধুমাত্র তথাকথিত লেবার পার্টির আসল ভোটাররা যথেষ্ট হবে না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সেইসব জনগণকে বোঝাতে সক্ষম হতে হবে যারা ইতোপূর্বে কনজার্ভেটিভ পার্টিকে ভোট দিতেন যে, অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সাথে সাথে সেবামূলক কাজের উন্নয়ন ও আরো উত্তম সমাজ গড়ে তুলতে লেবার পার্টির উপর আস্থা রাখা যায়।’

সাদিক খানের এই নীতি নির্ধারণী বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে যে, চার বছর লন্ডনের মেয়রের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি হয়তো লেবার পার্টির প্রধান পদে অধিষ্ঠিত হতে চাইছেন।

হাউজ অব কমন্সে করবিনের একজন শক্তিশালী সমর্থক ক্লাইভ লুইসও একই কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল দেখিয়েছে যে, লেবার পার্টির নেতৃত্বকে ‘আপোস’ ও জনগণের কাছাকাছি পৌঁছার জন্য অবশ্যই প্রস্তুত হতে হবে। গত সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি বেশ কিছু কাউন্সিল আসন হারিয়েছিল এবং স্কটল্যান্ডে দলটি তৃতীয় অবস্থানে চলে যায়।
নরউইক সাউথ আসনের এই এমপি বলেন, ‘সরকার গঠন করতে হলে আমাদের নতুন একটি কৌশল ও ন্যারেটিভ (আখ্যান) গড়ে তুলতে হবে’।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

Comments

comments