ব্রেকিং নিউজ

কোন ক্লু উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ, রাবিতে বিক্ষোভ

Rezaul_Karim_Siddique-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস ডেস্কঃ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে (৬১) কুপিয়ে হত্যার ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি পুলিশ। ফলে অন্ধকারেই চলছে পুলিশের তদন্ত। তবে অন্যদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই শিক্ষকের গ্রামের বাড়ির মসজিদের ইমামসহ দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটককৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এ দাবি করা হলেও পুলিশ তা অস্বীকার করছে। এদিকে শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকালও উত্তাল ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। হাজার হাজার ছাত্রজনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। দুপুর পৌনে ১২টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে কাজলা গেট পর্যন্ত ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা।

চার দিনেও ক্লু মেলেনি : অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রেজাউস সাদিক বলেন, এ মামলায় সোমবার কাউকে আটক করা হয়নি। হত্যার মোটিভও পরিষ্কার করা যায়নি। তবে আমাদের কাছে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত এসেছে, আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছি। আশা করছি, শিক্ষক হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-৫ রাজশাহীর সহকারী পরিচালক এএসপি শ্যামল চৌধুরী বলেন, চাঞ্চল্যকর হত্যাকা-ের ঘটনায় র‌্যাব বিভিন্নভাবে কাজ করে থাকে। অধ্যাপক রেজাউল হত্যার বিষয়ে আমরা তৎপর আছি। তবে এখন পর্যন্ত খুনের মোটিভ উদ্ধার না হওয়ায় খুনিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। খুনের মোটিভ উদ্ধার করা গেলে খুনিদের চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে জানান তিনি। 

অধ্যাপক রেজাউল হত্যার খুনিদের বিচারের দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে ঘণ্টাব্যাপী মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীরা। এতে দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। যাত্রীরা পড়েন ভোগান্তিতে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

ড. রেজাউল হত্যার ঘটনায় শিক্ষকের গ্রামের বাড়ির মসজিদের ইমামসহ আরও দুজনকে গতকাল ভোর রাতে পুলিশ আটক করে। বাগমারার দরগামাড়িয়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এ দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন দরগামাড়িয়া গ্রামের জামে মসজিদের ইমাম রায়হান আলী ও গোপালপুর মাদ্রাসার শিক্ষক মুনসুর রহমান। রায়হানের বাড়ি বাগমারার তালঘরিয়া ও মুনসুরের বাড়ি একই উপজেলার খাজাপাড়া গ্রামে। এ নিয়ে শিক্ষক হত্যাকা-ের ঘটনায় চারজনকে আটক করা হলো। এর আগে ছাত্রশিবিরের নগরীর ১৯ নং ওয়ার্ডের এক নেতাকে আটক করা হয়। সোমবার আটক করা হয় জামায়াতের এক কর্মীকে।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, অধ্যাপক রেজাউল দরগামাড়িয়ায় একটি গানের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু তার গ্রামের মসজিদের ইমাম রায়হান আলী গান-বাজনা পছন্দ করতেন না। তাই তিনি ওই গানের স্কুল প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন। এ কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রায়হানকে আটক করে নিয়ে আসা হয়েছে। আর সন্দেহভাজন হিসেবে শিক্ষকের পাশের গ্রাম খাজাপাড়ার বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক মুনসুরকে আটক করা হয়েছে।

২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকায় ড. রেজাউল করিম সিদ্দিকীর নিজ বাসার সামনে তাকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

Comments

comments