ব্রেকিং নিউজ

১৫ বছরেও অগ্রগতি নেই রমনা বটমূলের বোমা হামলার!

ramna4-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস ডেস্কঃ

রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় করা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটির কোন সূরাহা হচ্ছেনা।
বর্তমানে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারাধীন। সাক্ষী না আসায় তারিখের পর তারিখ পড়ছে। ২০১৫ সালের ২৩ জুন ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত দায়রা জজ রুহুল আমিন হত্যা মামলায় হুজি প্রধান মুফতি হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদ- এবং আরও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদ-ের আদেশ দিয়ে মামলাটির রায় ঘোষণা করলেও বিস্ফোরক মামলাটির কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ঘটনার পর ১৫ বছর কেটে গেলেও এ পর্যন্ত ৮৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ২৪ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।
আইনজীবী ফারুক আহমেদ এ প্রতিবেদককে বললেন, “এটা সত্যিই অমানবিক। বছরের পর বছর এ মামলার আসামীরা হাজতে আটকে আছে বিচারের অপেক্ষায়। তারা যদি খালাস পায় তবু তাদের জীবন থেকে চলে যাওয়া বছরগুলো কি ফেরত পাবে তারা?”
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর পি পি আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, হত্যা মামলায় যেসকল সাক্ষী ছিল তারাই এ মামলার সাক্ষী। এদের মধ্যে প্রধান প্রধান সাক্ষীদের বেশীরভাগেরই ঠিকানা বদল হয়ে যাওয়ায় সমন দিলেও কোন লাভ হচ্ছে না।”
২০০১ সালে বর্ষবরণ উৎসবে এ জঙ্গিদের বোমা হামলায় ১০ ব্যক্তি নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হয়। এ ঘটনায় বাবুপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ বাদী হয়ে দুইটি পৃথক মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলা ও আরেকটি বিস্ফোরক নিরোধ আইনের অধীনে করা মামলা।
ঘটনার সাড়ে সাত বছর পর ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় ছয়জন তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করে শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর আবু হেনা মোহাম্মদ ইউসুফ মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত মামলাটিতে ২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
অভিযোগপত্রে যাদের নাম উল্লেখ করা হয় তারা হলেন-  মুফতি আব্দুল হান্নান, মুফতি শফিকুর রহমান, মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি আব্দুল হাই, মাওলানা শওকত ওসমান, মাওলানা আবু বকর, মাওলানা মোহাম্মদ তাজউদ্দিন, মাওলানা আব্দুল হান্নান সাব্বির, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা আকবর হোসেন, মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা আব্দুর রউফ, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর এবং শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল। এদের মধ্যে ১০ জন জেলহাজতে আর ৪ জন পলাতক।
মুফতি হান্নান, আকবর ও আরিফ নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন এবং বর্ষবরণ উৎসবকে ইসলাম-বিরোধী উৎসব হিসেবে নিজেদের বিশ্বাসের কথাও জানান।
হত্যা মামলায় ২০১৪ সালে মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদ-াদেশ দেন আদালত। হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় আছে। 

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল ১ বৈশাখে  রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে জঙ্গিদের বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থলে ৯ জন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ জন মারা যান। আহত হন অনেকেসুত্র-আমাদের সময়

Comments

comments