ব্রেকিং নিউজ

ব্রডব্যান্ড জালিয়াতি; গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ

grameen phone-thebdexpress

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন এবং তাদের পার্টনার প্রতিষ্ঠান এডিএন টেলিকম ও অগ্নি সিস্টেমের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে ‘গো ব্রডব্যান্ড’ সেবা বাজারে চালিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। 
সম্প্রতি এ সেবা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশন (বিটিআরসি)। আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে এর উত্তর দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে এ প্রতিষ্ঠান।  
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ ফোনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আনে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। এক মাস পরে গত ৩০ মার্চ বিটিআরসি এর ব্যাখ্যা তলব করে। 
টেলিকম অ্যাক্ট ২০০১ (২০১০ সালে সংশোধীত) অনুসারে লাইসেন্সের শর্ত ভেঙ্গ করার জন্য অপারেটরটি আর্থিক জরিমানা এমনকি লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারে কমিশন।  
বিটিআরসি’র চিঠিতে বলা হয়েছে, ৬টি বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করতে হবে গ্রামীণফোন, এডিএন এবং অগ্নি সিস্টেমকে। এর মধ্যে রয়েছে-
গো ব্রডব্যান্ড কি ধরণের সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান, এটি বিটিআরসির লাইসেন্স প্রাপ্ত কি না বা কোন ব্র্যান্ড হলে তা কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে কি না? গো ব্রডব্যান্ড কি কি ধরণের সে বা প্রদান করছে এবং সেটি কীভাবে? 
গো ব্রডব্যান্ড রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী ব্যাংকের সারা দেশের ব্রাঞ্চগুলোতে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য চুক্তি করেছে, এর কপি কমিশনে জমা দিতে হবে। 
গো ব্রডব্যান্ড কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে রেভিনিউ শেয়ারিং ও ট্যারিফ প্ল্যান  অনুমোদন নিয়েছে কিনা এবং নিয়ে থাকলে এর  মেয়াদ কী?
এডিএন টেলিকিমন, অগ্নি সিস্টেমস এবং গ্রামীণফোন প্রতিষ্ঠান ৩টি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা কী এবং এ চুক্তির কপি কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে। গো ব্রডব্যান্ড কিভাবে ট্রান্সমিশন স্থাপন করেছে তার পূর্ণ তথ্য কমিশনে জমা দিতে হবে। 
বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, মূলত ৫টি বড় ধরণের অনিয়ম করেছে গ্রামীণফোন। এর মধ্যে রয়েছে-
গ্রামীণফোন ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং গাইডলাইন অমান্য করেছে। গাইডলাইন অনুসারে তারা অনুমতি ছাড়া ইনফ্রাস্টকচার শেয়ার বা  লিজ দিতে পারে না।গ্রামীণফোন অন্য সব মোবাইলফোন অপারেটরের মত কোন ওয়্যার কানেটিভিটি দিতে পারে না। 
তারা ফাইবার কানেকটিভিটি দিচ্ছে, সেটি তারা করতে পারে না, কারণ ফাইবার কানেকটিভিটি দেয়ার একমাত্র অধিকার রয়েছে এনটিটিএন অপারেটরদের।  
তারা বিটিআরসি’র অনুমতি ছাড়াই সোনালী ব্যাংকের ৭শ’ শাখায় ওয়্যার টেকনলজি ব্যবহার করে ইন্টারনেট কানেকটিভিটি দিচ্ছে। এটাও তারা ওয়াইমেক্স গাইডলাইন অনুসারে পারে না। 
তারা ওয়াইমেক্স সার্ভিস দাতা প্রতিষ্ঠান কিউবি ও বাংলালায়নের মত মোডেম দিয়েও সেবা দিচ্ছে। এর জন্য তাদের কোনো লাইসেন্স নেই। ওয়াইমেক্স সেবা দেওয়ার জন্য কিউবি ও বাংলালায়ন ২১৫ কোটি টাকায় লাইসেন্স নিয়েছে, সেখানে গ্রামীণফোন এডিএন ও অগ্নির সাথে মিলে সেবাটি দিচ্ছে, যেখানে এডিএন এবং অগ্নির  লাইসেন্স ফি ৫ লাখ টাকার নিচে।

Comments

comments