ব্রেকিং নিউজ

কী আছে দুই মন্ত্রীর ভাগ্যে?

minister-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস.কমঃ

আদালত অবমাননার দায়ে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ অর্থদন্ড-দিয়েছে। অর্থদন্ড অনাদায়ে সাতদিনের কারাভোগের শাস্তি হয়েছে

আদালত বলেছেন, তাঁরা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। এ অবস্থায় তাঁদের বিরুদ্ধে শপথ ভঙ্গের অভিযোগ প্রকারান্তরে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তাঁদের মন্ত্রিত্ব থাকবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বলছেন, আদালত অবমাননার দায়ে কোনো মন্ত্রীর অর্থদণ্ড হলে মন্ত্রিত্ব যাবে—এমন কিছু বলা নেই সংবিধান ও আইনে। এ কারণে তাঁদের মন্ত্রিত্ব যাবে না। তবে এর সঙ্গে নৈতিকতার প্রশ্ন জড়িত। সাংবিধানিক পদে থেকে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের সেই পদে থাকা উচিত কি না সেটা তাঁদের নিজেদের ভাবা দরকার। তবে তাঁদের মন্ত্রী পদে রাখা হবে কি না সে বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর। 
তবে এই শাস্তির কারণে তাদের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য পদ চলে যাবে এমন কোনো বিধান সংবিধানে নেই। সেই জন্য তারা আদালত অবমাননার অভিযোগে শাস্তি হলেও তারা মন্ত্রী পদে থাকতে কোনো বাধা নেই।
তবে গতকাল রবিবার দিনভর তাদের শাস্তি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। গুঞ্জন উঠেছে আজকের নিধারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করছেন! অথবা প্রধানমন্ত্রী তাদের পদত্যাগের জন্য নির্দেশ দেবেন ইত্যাদি।
দুই মন্ত্রীর সাজা নিয়ে সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, আদালতের সাজার পর মন্ত্রী থাকা অনৈতিক। তারা শপথ ভঙ্গ করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। সাংবিধানিক পদধারী ব্যক্তি শপথ ভঙ্গ করলে তারা আর ওই পদে বহাল থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন। সাংবিধানিক পদ যারা ধারণ করেন তাদের শপথ নিতে হয়। আর এই শপথ যখন ভঙ্গ হয় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ যদি এই শপথ ভঙ্গ করেন তাহলে তিনি ওই পদে বহাল থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন। শপথ ভঙ্গ এবং নৈতিকতার কারণে দুই মন্ত্রী আর স্বপদে থাকতে পারেন না বলে মনে করেন অনেক আইনবিদ।

তবে কয়েকজন আইনজীবী বলছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে সাজা হওয়ার পর মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত থাকার সঙ্গে নৈতিকতার প্রশ্ন জড়িত। পদে থাকার নৈতিকতা হারিয়েছেন দুই মন্ত্রী। তাঁরা বলছেন, দেশের কোনো ব্যক্তিকে মন্ত্রী হতে হলে সংবিধানের অধীনে শপথ নিতে হয়। শপথ পাঠ ছাড়া কেউ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। এ বিষয়ে সংবিধানের ১৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।’ আইনজীবীরা বলছেন, শপথগ্রহণের বিষয়ে সংবিধানের তৃতীয় তফসিলের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘…আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা বিধান করিব,…’। অর্থাৎ একজন মন্ত্রী শপথ করেছেন সংবিধান রক্ষার। তিনি যদি সংবিধান লঙ্ঘন করেন তবে তাঁর শপথ থাকে না। আর শপথ না থাকলে মন্ত্রিতও্ব থাকে না।

ড. কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে সাংবিধানিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর নজির ইংল্যান্ড, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছে। তবে আমাদের এ দুই মন্ত্রী কী করবেন সেটা দেখার বিষয়।’

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সংবিধানেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা আছে বলে তাঁর জানা নেই। তবে এটা নৈতিকতার সঙ্গে জড়িত। তাঁরা মন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারবেন কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। তিনি বলেন, ‘আদালত অবমাননার দায়ে এর আগে এরশাদ সরকারের আমলে হাবিবুল্লাহ খান নামের একজন মন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। এরপর এই দুজনকে দোষী করা হলো।’ তিনি আরো বলেন, আদালত তাঁর রায়ে বলেছেন, এই দুই মন্ত্রী চরমভাবে আদালত অবমাননা করেছেন। তাঁদের অপরাধের গুরুত্ব এত বেশি যে আদালত বলেছেন তাঁদের ক্ষমা করা যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময়ে কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করিতে অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং উক্ত মন্ত্রী অনুরূপ অনুরোধ পালনে অসমর্থ হইলে তিনি রাষ্ট্রপতিকে উক্ত মন্ত্রীর নিয়োগের অবসান ঘটাইবার পরামর্শ দান করিতে পারিবেন।
 

Comments

comments