ব্রেকিং নিউজ

চ্যাম্পিয়ন ভারত; মিরপুরে ফের স্বপ্নভঙ্গের বেদনা

india-win-thebdexpress

ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ

প্রত্যাশার পারদ ছিল আকাশচুম্বি। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বড় কোনো ক্রিকেট আসরে শিরোপা জিতবে বাংলাদেশ; মাশরাফিদের ঘিরে স্বপ্নে বিভোর গোটা জাতি। কিন্তু মিরপুরে সেই স্বপ্নের সলিল সমাধি হলো। 

এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে জিততে পারলো না বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টির এক নম্বর দল টিম ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ৮ উইকেট হেরে গেলো স্বাগতিকরা। টাইগারদের করা ১২০ রানের জবাবে দুই উইকেট হারানো ভারত ৭ বল হাতে রেখেই জয় তুলে এশিয়ার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হলো।

 ২০১২’র সেই হৃদয় ভঙ্গ করা ফাইনালের সেই স্মৃতি আবারও বাংলাদেশকে উপহার দিল ভারত। স্বপ্নের এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে বাজে ফিল্ডিংয়ের খেসারত দিয়ে শিরোপাটাও হাতছাড়া করে ফেললো বাংলাদেশ।

মাহমুদউল্লাহর আড়াই শ স্ট্রাইক রেটের ঝোড়ো ব্যাটিং, বল হাতে শুরুতেই আল-আমিনের ব্রেক থ্রু এনে দেওয়া- বৃথা গেল সবই। ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানে হেরে যাওয়া বাংলাদেশ চার বছর পর ভারতের কাছে হারল ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে। বৃষ্টিবিঘ্নিত ফাইনালে ১৫ ওভারে বাংলাদেশের দেওয়া ১২১ রানের লক্ষ্যটা ৮ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখেই টপকে গেলে মহেন্দ্র সিং ধোনি দল।

ভারতের সামনে ১২০ রানের অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েও একের পর এক মিস ফিল্ডিংয়ের কারণে শিরোপা জেতা হলো না বাংলাদেশের। উল্টো ৭ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটে বাংলাদেশকে হারিয়ে ৬ষ্ঠবারের মতো এশিয়া কাপ জিতে গেলো ভারত।

ভারতের এই জয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান শিখর ধাওয়ানের। ভারতীয় এই ওপেনারের ব্যাট থেকেই এলো ৪৪ বলে ৬০ রান। ৯টি বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি। সঙ্গে একটি ছক্কা। বিরাট কোহলি করেন ৪১ রান।

ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি এমনিতেই গ্রেট ফিনিশার। এশিয়া কাপের ফাইনালে তিনি আল আমিনকে ছক্কা মেরে জিতিয়ে দিলেন ভারতকে। ৬ বলে তিনি করেন ২০ রান ।

১২১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা ভারতের ইনিংসের শুরুতেই আঘাত হানেন আল-আমিন হোসেন। বাংলাদেশি পেসারের তৃতীয় বলেই স্লিপে সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রোহিত শর্মা (১)।

এর আগে মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটে ১২০ রানের লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ মাত্র ১৩ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত ৩৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন। সাব্বির রহমান ২৯ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন।

এ ছাড়া মাশরাফি বিন মুর্তজা (১ বলে ০), মুশফিকুর রহিম (৫ বলে ৪), সাকিব আল হাসান (১৬ বলে ২১), তামিম ইকবাল (১৭ বলে ১৩) ও সৌম্য সরকার (৯ বলে ১৪) রান করেন।

খেলা শুরু হয়েছে সাড়ে ৯টায়, প্রতি ইনিংস হবে ১৫ ওভারের। একজন বোলার সর্বোচ্চ ৩ ওভার করতে পারবেন। পাওয়ার প্লে ৫ ওভার। ইনিংস বিরতি ১০ মিনিট।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবাল। অশিষ নেহরার করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারের টানা দুই বলে দুটি চার মেরে পরের বলে ফিরে যান সৌম্য (৯ বলে ১৪)। উদ্বোধনী জুটিতে ৪ ওভারে আসে ২৭ রান। তবে সৌম্যের বিদায়ের পরের ওভারে তামিমও (১৭ বলে ১৩) ফিরে যান।

তৃতীয় উইকেটে সাব্বির রহমানের সঙ্গে ৩৪ রানের জুটি গড়ে ফেরেন সাকিব আল হাসান (১৬ বলে ২১)। এরপর মুশফিকুর রহিম (৪) ও মাশরাফি (০) দ্রুত ফিরে গেলেও সাব্বিরের সঙ্গে মাত্র ২০ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৫ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন মাহমুদউল্লাহ।

শেষ তিন ওভারেই ৪২ রান তোলে এই জুটি। ১৪তম ওভারে পান্ডিয়াকে দুবার উড়িয়ে সীমানার বাইরে আছড়ে ফেলেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় অপরাজিত ৩৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। আর সাব্বির ২৯ বলে ২ চারে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

চার পেসার নিয়ে খেলছে বাংলাদেশ। মোহাম্মদ মিথুনের পরিবর্তে খেলছেন অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। এ ছাড়া স্পিনার আরাফাত সানীর পরিবর্তে এসেছেন পেসার আবু হায়দার রনি।

ভারতীয় দলে তিনটি পরিবর্তনে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে বিশ্রামে থাকা অাশিষ নেহরা, রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন দলে ফিরেছেন। দলের বাইরে গেছেন ভুবনেশ্বর কুমার, হরভজন সিং ও পাওয়ান নেগি।

রোববার দুপুর থেকেই মিরপুরের আকাশ ছিল মেঘলা। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় হঠাৎ মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টি শুরুর পরই মাঠকর্মীরা দ্রুত মিরপুরের সবুজ উইকেট ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেন। ১৫ মিনিট ত্রিপল দেওয়া ছিল। এর পরই সেগুলো উঠিয়ে নিতে শুরু করেন মাঠকর্মীরা।

কিন্তু খানিক বাদেই ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎও চলে যায়, ফ্লাডলাইটগুলো হয়ে যায় বন্ধ। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার কিছু আগে ফ্লাডলাইটের আলোতে আবার আলোকিত হয়ে যায় স্টেডিয়াম। সাতটা ৪০ মিনিটে বৃষ্টিও থেমে গেলে মাঠকর্মীরা মাঠ পরিচর্যার কাজে নেমে পড়েন। এরপর আম্পায়াররা মাঠ পর্যবেক্ষণ করে সাড়ে ৯টায় খেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন। খেলার সিদ্ধান্ত হয় প্রতি ইনিংস ১৫ ওভারের।

 

Comments

comments