ব্রেকিং নিউজ

হাতিয়ায় ইউপি নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষ পুলিশের গুলি, আহত-২৫

noakhali-thebdexpress

জেলা প্রতিনিধি, 
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলায় হাতিয়া বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ, ভাঙচুর, গাড়ীতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২৫জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ও লাঠি চার্জ করেছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার পৃথক স্থানে এসব ঘটনা ঘটে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী বাহার উদ্দিন মোটরসাইকেল যোগে নির্বাচনী প্রচারণাকালে সোনাদিয়া জমজ আলী বাজার এলাকায় তার ওপর হামলা চালায় তার প্রতিপক্ষের লোকজন। এসময় তারা বাহারের শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে জখম করে। পরে এ ঘটনায় বাহারের সমর্থকরা বাংলাবাজারে গিয়ে অবস্থান করলে মালেশিয়া নুর ইসলাম এর লোকজনের ধাওয়া পাল্টা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় সংঘর্ষকারীরা ৩টি দোকান ও ১টি বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ ঘটনার জের ধরে একই সময় সোনাদিয়া চৌরাস্তা বাজারে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াছিন আরাফাতের দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও একটি নির্বাচনী প্রচারণার গাড়ীতে আগুন দেয় হামলাকারীরা। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০জন আহত হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠি চার্জ ও কয়েক রাউন্ড শর্টগানে গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে তমরদ্দিন ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ওমর ফারুক তার লোকজন নিয়ে ওছখালি যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট ছাইফ উদ্দিনের বাসার সামনে গেলে তাদের ওপর অর্তকিত হামলা চালিয়ে কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে একদল দূর্বৃত্ত। এসময় তারা অন্তত ৮ জনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে কয়েকটি মোটরসাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে। 
এই ঘটনার জের ধরে কয়েকজন উত্তেজিত জনতা আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট ছাইফ উদ্দিনের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় ছাইফ উদ্দিনের ৫জন লোক আহত হয়।
এদিকে রোববার দুপুর ১২টার চরকিংক ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহি উদ্দিন মুহিন’এর বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও গুলি চালিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহিন উদ্দিন চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। এসময় মহি উদ্দিনের বাবা আমির হোসেন ওরফে হোসেন আওরৎদার (৬০) মো. হৃদয় (২২) গুলিবিদ্ধ হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে হোসেন আরধার ও হৃদয়’এর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এসব ঘটনায় পুরো উপজেলায় থমথমে অবস্থা ও স্থানীয়দের মাঝে আতংক বিরাজ করছে।
সোনাদিয়ার বাংলাবাজারে হামলার বিষয়ে রোববার সকালে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিছুল হক জানান, রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে ১০/১৫ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে চরকিংক ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহি উদ্দিন মুহিনের বাড়ীতে হামলার বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার ফোন করলেও হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিছুল হক ফোন রিসিভ করেন নি।

Comments

comments