ব্রেকিং নিউজ

একটি জয়ে রচিত হবে ইতিহাস

a b yamin

আবু বকর ইয়ামিন।।
এশিয়া কাপের ক্রিকেট নিয়ে উচ্ছাসে ভাসছে পুরো দেশ। গত ম্যাচে পাকিস্তানকে হারালে আনন্দে মেতে উঠে রাজধানীসহ পুরো দেশবাসী। খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে শহরের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল বের করে উচ্ছসিত জনতা। ২০১২ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ। ওই বছর শাষরুদ্ধকর ম্যাচে বাংলাদেশকে দুই রানে হারিয়ে অশ্রু ঝরিয়েছিল পাকিস্তান। তবে ৩ বছর পর আবারো অশ্রু ঝরিয়েছে মাশরাফির টাইগার বাহিনী। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও অশ্রু সংবরণ করতে পারেন নি ওইদিন। তবে এ অশ্রু আর কষ্টের নয়, বাঁধভাঙ্গা আনন্দের।  

এবার হয়তো পাকিস্তান নয়, ভারতের ধোনি বাহিনীর চোখেও কষ্টের অশ্রু ঝরাতেও ভূল করবে না টাইগাররা। আর এটি হবে টাইগার বাহিনীর সফলতা। তাদের এমন সফলতা হয়তো এনে দিবে ১৬ কোটি বাঙালির হৃদয়ে বুকভরা হাসি। এনে দিনে বহুল প্রত্যাশিত জয়। রচিত করবে নতুন ইতিহাস। 

মাশরাফির টাইগার বাহিনীর স্বপ্নের এ ফাইনাল নিয়ে আবেগ আর উচ্ছ্বাসে বিভোর সারা দেশের মানুষ। দেশজুড়ে শহর পাড়া-মহল্লা, গ্রামে-গঞ্জে, আনাচে-কানাচে চলছে নানা আলোচনা। তবে সবার প্রত্যাশা একটাই আর তা হলো বাংলাদেশের জয়। বাংলাদেশের দর্শক ক্রিকেটপ্রেমিক। 

এ ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে তাদের প্রেম এখন বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো তুঙ্গে রয়েছে। খেলাকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই কোথাও। স্বপ্নের ফাইনাল খেলা দেখার প্রস্তুতি চলছে সারা দেশে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ফাইনাল খেলাটি বড় পর্দায় দেখা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। 

এই বিষয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাত আরা উষার সঙ্গে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। এখন আমরা যে কাউকে হারানোর সক্ষমতা রাখি। যেকোন মুহুর্তে যে কেউ ভালো খেলতে পারে। আমরা পাকিস্তান শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পেরেছি। আশা করি ভারত তেমন বড় কোন বাধা নয়। 

ইতিহাস বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম জানান, ২০১২ সালে হারের সে ক্ষতটা সঙ্গে নিয়েই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল গোটা দেশ। পাকিস্থানকে হারিয়ে কিছুটা হলেও পূরণ হয়েছে। ফাইনাল ম্যাচটি জিতলেই পুরোপুরি সেই বেদনার অবসান হবে বলে জানান। একই সাথে ইতিহাসে সাক্ষী হতে পারবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ক্রিকেটের প্রতি বাংলাদেশে ষোল কোটি মানুষের যে আবেগ কাজ করে তা আর কোন ক্ষেত্রে করে না। 

শুধু তারা নয়, পুরো দেশ মারশাফি বাহিনীর এই ইতিহাস দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। জাতি তাদের মাধ্যমে পুরানো কষ্ট ভুলে আনন্দ অশ্রুতে ভাসতে চায়। 

রাজধানীতে প্রায় প্রতিটি মোড়েই আজ ক্রিকেট নিয়ে ব্যাপক আয়োজন রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মল চত্বরে শাহবাগে রয়েছে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর বিশেষ আয়োজন। গত পাকিস্তান ম্যাচের খেলা দেখতে শাহবাগে গিয়ে দেখা যায় কোথাও দাঁড়ানোর ঠাই নেই। ক্রিকেটপ্রেমীদের সরব উপস্থিতিতে পুরো শাহবাগ এলাকা হয়ে ওঠে জনসমূদ্র। দর্শকদের সরব উপস্থিতি ছড়িয়ে যায় শাহবাগ থেকে টিএসসি পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। ক্রিকেটের প্রতি এ কেমন আবেগ আর ভালোবাসা। সত্যিই অবাক করার মতো। টাইগার বাহিনীর সাথে সাথে যেন জিতে ১৬ কোটি বাঙালি। 

রোববার শাহবাগ গিয়ে দেখা যায় দুপুর থেকেই জায়গা দখলের চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসটিসহ প্রায় প্রতিটি হলে বড় পর্দায়য় খেলা দেখা হয়ে থাকে। এই ফাইনাল ম্যাচটি দেখার জন্য আরো বড় আয়োজনের ব্যবস্থা করেছে শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের জয় পরবর্তী সময়ে টিএসসিতে ঢাকাবাসী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিলে যে করে থাকে যেটা আরো বড় পরিসরে হবে বলে আশা করছেন শিক্ষার্থীরা।

 আজকের ফাইনাল ম্যাচটিতে কে জিতবে? বাংলাদেশ নাকি ভারত। বিশেষ করে যুবসমাজের মাঝে এ আলোচনা বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। যে যার যার মতো মতপ্রকাশ করলেও সবাই বাংলাদেশের পক্ষে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া ভারতের অধিনায় মহেন্দ্র সিং ধোনি ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে হারানো আসলে কঠিন, চ্যালেঞ্জও বটে এমন মন্তব্যে পাগল দর্শকরা হয়েছেন দারুণ উজ্জীবিত। 

গত দুইদিন বিভিন্ন বয়সের বেশ কয়েকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, বাঙালি বীরের জাতি। ভারতের সাথে ফাইনালেও টাইগাররা বীরত্ব প্রদর্শন করবে। পুরুষদের পাশাপাশি স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী এমনকি গৃহিণীরাও বাংলাদেশ ভারত উত্তেজনাকর ফাইনাল ম্যাচ দেখার প্রহর গুনছে। স্বাগতিক দেশ তৎসহ সুশৃঙ্খল দর্শকের সমর্থন টাইগারদের বাড়তি শক্তি যোগাবে। 

Comments

comments