ব্রেকিং নিউজ

প্রধান বিচারপতিও আইনের ঊর্ধ্বে নন: ডা. ইমরান

imran-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস.কম:

প্রসিকিউশন, তদন্তকারীদল এমনকি প্রধান বিচারপতিও আইনের ঊর্ধ্বে নন বলে মন্তব্য করেছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।
সোমবার বিকালে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন মীর কাশেম আলীকে রক্ষার ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে আয়োজিত প্রতিবাদে সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, তাদেরকে মনে রাখতে হবে, আমরা কেউ ব্যক্তিস্বার্থে এই বিচার চাচ্ছি না। কোনো অপশক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই রায় পরিবর্তিত হলে আমরা কেউই এমনকি আদালতও এর দায় এড়াতে পারবেনা এবং প্রত্যেককেই ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কোনো মহল যদি যুদ্ধাপরাধীদের কাছে মাথা নত করেন কিংবা কোনোরকম আপস-রফার চেষ্টা করেন, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।
সম্প্রতি মাননীয় প্রধান বিচারপতি আদালতে একটি বক্তব্য রেখেছেন, যেখানে তিনি প্রসিকিউশন ও তদন্তকারী দলের নানা দুর্বলতার কথা বলেছেন উল্লেখ করে ডা. ইমরান বলেন, আমরা ধরে নিচ্ছি যে দশটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে তিনি সেগুলোর কথা বলেননি। যে চারটি অভিযোগে শাস্তি দেয়া যায়নি, তিনি সেগুলোর কথাই বলেছেন। মাননীয় প্রধান বিচারপতি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ব্যবহার করে ইতোমধ্যেই দেশি বিদেশি বিভিন্ন চক্র যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তাই আমরা প্রত্যাশা করতেই পারি আমাদের প্রধান বিচারপতি মহোদয় এমন কোনো বক্তব্য দিবেন না যা নিয়ে প্রতিক্রিয়াশীল চক্র বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধী অপশক্তি কোনো রকম জল ঘোলা করার সুযোগ পায়। আমরা আরো লক্ষ্য করেছি, প্রসিকিউশন ও তদন্তকারীদলকে অভিযুক্ত করে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু তার অধীনস্ত একজন সাবেক বিচারপতির যুদ্ধাপরাধীর পক্ষাবলম্বন করা নিয়ে কোনো বক্তব্য দেননি অথচ সেটাই যৌক্তিক ছিল। কেননা সাবেক বিচারপতি নজরুল ইসলাম রাষ্ট্র ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের মধ্যকার বিচারে মানবতাবিরোধীদের পক্ষাবলম্বন করে মূলত রাষ্ট্রের বিপক্ষেই দাঁড়িয়েছেন’।
তিনি বলেন, সদ্য অবসর নেয়া বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী, যিনি এখনো সরকারি সুযোগসুবিধা ভোগ করছেন, তিনি কিভাবে অবসরে গিয়েই যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই করতে চেয়েছিলেন। এখনো বিচারবিভাগে এই নজরুল ইসলামের সমআদর্শের যেসব সহকর্মী রয়ে গেছেন তাদের কাছ থেকে ঠিক কতটুকু ন্যায়বিচার আমরা পেতে পারি সে ব্যাপারেও আমরা সন্দিহান।
সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে ইমরান এইচ সরকার বলেন, আট তারিখের রায়কে কেন্দ্র করে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র। এই কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে ২, ৪, ৬ মার্চ প্রতিদিন বিকাল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত শাহবাগে গণঅবস্থান। এছাড়া প্রতিবারের মতোই আপিল বিভাগ কর্তৃক রায় ঘোষণার দিন, ৮ মার্চ সকাল থেকে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে গণজাগরণ মঞ্চ।
সমাবেশের পর গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ঘুরে আবার শাহবাগে এসে শেষ হয়।

Comments

comments