ব্রেকিং নিউজ

ঢাকায় সার্ক স্পিকার সম্মেলনে আসছে না পাকিস্তান

pharlament1-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস.কম।।

ঢাকায় অনুষ্ঠেয় দক্ষিণ এশীয় স্পিকার সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে না পাকিস্তান। এর আগে দক্ষিণ এশীয় পয়ঃনিষ্কাষণ সম্মেলনে যোগ দেয়নি দেশটি। অতীতে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন চললেও বর্তমানের মতো এতটা টানাপোড়েন কখনও দৃশ্যমান হয়নি। সূত্র জানায়, আগামী ৩০-৩১ জানুয়ারি ঢাকায় দক্ষিণ এশীয় স্পিকার সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ অংশগ্রহণ করবে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জাতীয় সংসদের স্পিকার এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। তবে পাকিস্তানের উচ্চকক্ষ সিনেটের সভাপতি মিয়া রাজা রাব্বানী এই সম্মেলনে আসছেন না।
 
দক্ষিণ এশীয় স্পিকার সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোকে ইতোমধ্যেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী পাকিস্তানের উচ্চকক্ষ সিনেটের সভাপতি মিয়া রাজা রাব্বানীকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি প্রথমে আসার জন্য সম্মতিও প্রকাশ করেছিলেন। তবে সম্মেলনের কয়েকদিন আগেই তিনি ঢাকার আয়োজকদের জানিয়েছেন, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন অব্যাহত থাকায় তিনি এই সম্মেলনে আসছেন না বলে জানা গেছে।
 
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দক্ষিণ এশীয় স্পিকার সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এই সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের স্পিকারকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) এই সম্মেলনের আয়োজক। দক্ষিণ এশিয়ার টেকসই উন্নয়নে তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস এই সম্মেলনের সহ আয়োজক।
 
এর আগে গত ১৩-১৪ জানুয়ারি ঢাকায় দক্ষিণ এশীয় পয়ঃনিষ্কাষণ সম্মেলনে সকল দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে ওই সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশ আসলেও পাকিস্তান অংশগ্রহণ করেননি। সে সময় পাকিস্তান জানিয়েছিল, তারা ৬০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় আসবে। তবে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেননি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, বাংলাদেশ তাদের প্রতিনিধি দলকে ভিসা দেয়নি। অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।
 
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক বরাবরই ছিল শীতল। এই সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে টানাপোড়েনও সৃষ্টি হয়েছে। তবে অতীতের চেয়ে বর্তমানে অনেক বেশি টানাপোড়েন চলছে। আর টানাপোড়েন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন শুধু যে তলানিতেই ঠেকেছে এমন নয়, তলানির পাশাপাশি টানাপোড়েনও চলছে। আর দিনে দিনে এই টানাপোড়েন আরও প্রকট হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের সঙ্গে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
 
এদিকে আগামী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা- সার্ক শীর্ষ সম্মেলন নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের নবেম্বরে ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এই সম্মেলন আয়োজনের জন্য পাকিস্তান ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। তবে ঢাকা-ইসলামাবাদের মধ্যে টানাপোড়েন চলতে থাকলে এই সম্মেলন আদৌ করা সম্ভব হবে কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেননা সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে সকল দেশের শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন। একটি দেশের শীর্ষ নেতা অংশগ্রহণ না করলে সাধারণত এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয় না। অতীতেও একাধিকবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হয়নি। এখন ঢাকা-ইসলামাবাদের মধ্যে টানাপোড়েনের বিষয়টি সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
 
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হতে এখন অনেক সময় বাকি। এই সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে চলা টানাপোড়েন শেষ হয়ে যেতে পারে। আর সেটা হলে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের ওপর কোন প্রভাব পড়বে না বলে তিনি জানান।
 
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে নতুন করে ঢাকা-ইসলামাবাদের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। যুদ্ধাপরাধী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আলী আহসান মুজাহিদের মৃত্যুদ-ে নাখোশ হয়ে গত ২২ নবেম্বর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তান। পাকিস্তানের ওই প্রতিক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ২৩ নবেম্বর দেশটির ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার সুজা আলমকে তলব করে সরকার। এদিকে ৩০ নবেম্বর ইসলামাবাদে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মৌসুমী রহমানকে তলব করে পাকিস্তান সরকার। তলব ও পাল্টা তলব নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়। এরই মধ্যে গত ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে পাকিস্তানের কূটনীতিক ফারিনা আরশাদকে প্রত্যাহার করে নেয় দেশটি। ফারিনা আরশাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে জঙ্গী তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ দেয় বাংলাদেশ। তারই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইসলামাবাদ থেকে বাংলাদেশের কূটনীতিক মৌসুমী রহমানকে প্রত্যাহারের দাবি জানায় পাকিস্তান। সে কারণে গত ৫ জানুয়ারি মৌসুমী রহমানকে প্রত্যাহার করে নেয় বাংলাদেশ।
 
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যা বা নৃশংসতাকে পাকিস্তান অস্বীকার করছে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে দেশটি। পাকিস্তান সরকার একাত্তরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ধারণাপ্রসূত হিসেবে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে নৃশংসতার কোন ঘটনা ঘটেনি। আর গণহত্যার ঘটনার জন্য পাকিস্তানের কোন দায় ছিল না। পাকিস্তানের ওপর আনা এসব অভিযোগ সত্য থেকে অনেক দূরে। বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে ভিত্তিহীন ও অমূলক অভিযোগ আনছে বলে মনে করে দেশটি। ঘটনার ধারাবাহিকতায় পর পর ঢাকায় দুইটি দক্ষিণ এশীয় সম্মেলনে পাকিস্তান অংশগ্রহণ না করায় দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

Comments

comments