ব্রেকিং নিউজ

চুক্তি অনুযায়ী পদ্মায় পানির প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা

Padma-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস.কম।।

গঙ্গার পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে ৩০ বছরের চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিকহারে পানির প্রবাহ হ্রাস পাচ্ছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার এই সময়ে পানির উচ্চতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।

চুক্তি কার্যকর করার পর প্রতিবছরের মতো চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ায় পদ্মাসহ অন্যান্য শাখা-প্রশাখা নদনদী শুকিয়ে গেছে। অনেক নদী মরে যাওয়ার পথে।

সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর তুলনামূলক এই সময়ে এ বছর পদ্মা নদীতে (বোয়ালিয়া-রামপুর) পয়েন্টে পানির প্রবাহ সবচেয়ে কম।

গঙ্গা নদীর উজানে, বিশেষ করে ফারাক্কা বাঁধ পয়েন্টে আগেভাগেই ভারতের অতিরিক্ত হারে পানি প্রত্যাহার এবং ১ জানুয়ারি থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা না দেয়ার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় পাউবো বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

যৌথ নদী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এবারের শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই জানুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিনে ইতিহাসের সবচেয়ে কম পানি প্রবাহ ছিল ফারাক্কা পয়েন্টে। এর আগে জানুয়ারি মাসে পানি এত কম প্রবাহ হয়নি। গত বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিন ফারাক্কায় গঙ্গার গড় পানি প্রবাহ থেকে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৫৯ হাজার কিউসেক। চলতি বছর সেই পানির প্রাপ্যতা কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৫১৬ কিউসেক। ২০১৪ সালে এই সময়ে বাংলাদেশের পানির প্রাপ্যতা ছিল ৭০ হাজার ৮৫৩ কিউসেক। এভাবে চলতে থাকলে ফেব্র“য়ারি ও মার্চ মাসে পানির প্রাপ্যতা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  

বাংলাদেশ ও ভারতের  মধ্যে ঐতিহাসিক পদ্মার পানি বন্টন চুক্তি হওয়ার পর বর্তমানে নদীর পানির প্রবাহ শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই কমে গেছে। পদ্মার বাংলাদেশ অংশের ফারাক্কায় এর প্রবাহ এই সময়ের স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে যৌথ নদী কমিশনে বাংলাদেশের তরফ থেকে ভারতের যৌথ নদী কমিশনের কাছে উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এ সম্পর্কিত একটি কূটনৈতিক চিঠি (নোট ভারবাল) নয়াদিল্লিতে পাঠানোর জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

১৯৭৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পর বাংলাদেশকে তার ন্যায্য হিস্যা না দিয়ে ভারত গঙ্গার পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিতে থাকে। এর ফলে বাংলাদেশ এক ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়।

কয়েকটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার পর ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে ভারত ও বাংলাদেশ অবশেষে স্বাক্ষর করে ৩০ সালা পানি বণ্টন চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৫০ দিন গঙ্গার পানি বণ্টন করা হয়।

চরম শুষ্ক সময়ে (১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত) উভয় দেশের ১০ দিন পরপর কমপক্ষে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ভারত এই চুক্তি পুরোপুরি অনুসরণ করে না।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২০টি জেলার ১২৩টি নদীর পানির উৎস গঙ্গা নদী। ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ গঙ্গার ২৪০ কিলোমিটার বয়ে গেছে বাংলাদেশে। কলকাতা বন্দরের নাব্য রক্ষায় গঙ্গার অংশ হুগলি নদীতে পানি প্রবাহের জন্য ‘ফারাক্কা ব্যারেজ’ করা হয় ১৯৭৫ সালে। এর পর বহু আলোচনা পর ১৯৯৭ সালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি হয়।সুত্রঃ বিডি টুডে

Comments

comments