ব্রেকিং নিউজ

নিজামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ

nizami-thebdexpress

প্রতিবেদক।।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর করা আপিলের রায়েও ফাঁসি বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
বুধবার সকালে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হলেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে নিজামীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, শিশির মনির, নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। এ ছাড়া আদালতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিপুল সংখ্যক সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে মৃত্যুদ- দেয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ওই রায় বাতিল চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন তিনি। শুনানি শেষে গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রায় ঘোষণার জন্য ৬ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিল আপিল বিভাগ।
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১ কার্যদিবসে আপিল মামলাটির শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন নিজামীর প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এস এম শাহজাহান।
শুনানিতে যুক্তি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, যে চারটি হত্যা-গণহত্যা ও ধর্ষণের দায়ে নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে যেন সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকে।
বিশেষ করে একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যাকা- সীমাহীন অপরাধ বলে উল্লেখ করে শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সর্বোচ্চ শাস্তিই এ অপরাধের একমাত্র সাজা। ফাঁসি ছাড়া এর অন্য কোনো বিকল্প নেই।’
অন্যদিকে আসামিপক্ষের দাবি, ‘অপরাধ সংঘটিত হলেও নিজামী সে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন। এর পরও কোনো অভিযোগে যদি আদালত দোষী সাব্যস্ত করেন, তাহলে তাঁকে যেন চরম দ- দেওয়া না হয়।’ আর এ বিষয়ে আদালতে আরজিও জানান আসামির আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।
উল্লেখ্য, বুদ্ধিজীবী গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশত্যাগে বাধ্য করা, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের রায় দেন ট্রাইব্যুনাল।
নিজামী একাত্তরে ছিলেন দলটির ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি এবং সেই সূত্রে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত আলবদর বাহিনীর প্রধান। স্বাধীনতাকামী বাঙলির ওপর দমন-পীড়ন চালাতে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত রাজাকার বাহিনী ও শান্তি কমিটিতেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উঠে আসে।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে গত ২৩ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন নিজামী। ছয় হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার নথিপত্রসহ নিজামীর করা আপিলে ১৬৮টি যুক্তি তুলে ধরে সাজার আদেশ বাতিল করে খালাস চাওয়া হয়। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নিজামীর আপিলের সারসংক্ষেপ দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিলের জন্য রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। এর পর উভয় পক্ষ সারসংক্ষেপ জমা দেন।
নিজামীর মামলাটির মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্ত রায় হতে যাচ্ছে ষষ্ঠ আপিল মামলার। ট্রাইব্যুনাল থেকে আপিল বিভাগে আসা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর মধ্যে এর আগে পাঁচজনের মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে।

Comments

comments