ব্রেকিং নিউজ

বড়দিন উদযাপনে ব্রুনাইয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা

sultan-thebdexpress

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

বড়দিন উৎসবের সাজসজ্জা ও সমবেত কোরাস মুসলিম বিশ্বাসকে নষ্ট করতে পারে এই ভয়ে ব্রুনাই সরকার দেশটিতে প্রকাশ্যে বড়দিন উদযাপন নিষিদ্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বড়দিন পালন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

ব্রুনাইতে মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশই মুসলিম। রক্ষণশীল ইসলামী রাষ্ট্র হওয়ায় অমুসলিমদের বড়দিন পালন করতে হবে সীমিত পরিসরে এবং সেই সাথে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যেমন, অমুসলিমদেরকে নিজেদের ভেতরে  বড়দিন অনুষ্ঠান পালন করতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে
বোর্নিও দ্বীপের রক্ষণশীল মুসলিম দেশটি অমুসলিমদের বড়দিন উদযাপনে কোনো বাধা নেই। নিজেদের সম্প্রদায়ের মধ্যে খ্রিস্ট ধর্মালম্বীরা নির্বিঘ্নেই বড়দিন উদযাপন করতে পারবেন। তবে অন্যান্যরা বিশেষত মুসলমানরা তাদের উৎসবে যেতে চাইলে আগে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
ব্রুনাইয়ের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো বড়দিনের জাকজমকপূর্ণ ও প্রকাশ্য উদযাপন সীমিত করা। কারণ এতে করে মুসলিম আকিদার (বিশ্বাস) ক্ষতি হতে পারে। এর আগে গত নভেম্বর মাসে দেশটির কিছু ইমাম মুসলিমদের বড়দিন উৎসবে যোগ দেওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের বক্তব্য, আমরা অন্যদের অনুকরন করে অজ্ঞাতে নিজের ধর্মবিশ্বাসকে ক্রমে দুর্বল করে ফেলছি।

চলতি মাসের শুরুতে একদল ইমাম ঘোষণা করেন, ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন কোনো উৎসবে অংশ নিলে অসচেতনভাবেই মুসলমানদের বিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে।

ব্রুনেইয়ের সংবাদমাধ্যম ‘বর্নিও বুলেটিনে’ বলা হয়, ব্রুনাইয়ের মুসলমানরাও বড়দিনের কিছু আয়োজনে অংশ নেন। এমন অংশগ্রহণ ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী বলে দাবি করেন ইমামরা।

এরই মধ্যে বড়দিন উৎসব নিষিদ্ধের বিরোধিতা করেছেন অনেক ব্রুনাইবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনমত গড়ে তুলতে তাঁরা হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছেন।

ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ এর আগেও দেশে শরিয়া আইন চালু করে পশ্চিমা বিশ্বে সমালোচিত হন। ওই আইন চালুর ঘোষণা দেওয়ায় ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে সুলতানের মালিকানাধীন অনেক হোটেল বয়কট করেন অনেকে।

Comments

comments