তিনদিনের রিমান্ড শেষ, জঙ্গি সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার ব্যারিষ্টার শাকিলার

শাকিলা ফারজানাচট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবীর রিমাণ্ড গতকাল শেষ হয়েছে । আজ সকালে তাদের বাঁশখালী আদালতে তোলা হবে। জঙ্গি অর্থায়ন ও শহীদ হামজা ব্রিগেড সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে র‌্যাবের একাধিক টিম তাদের কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের শেষদিনেও ব্যারিস্টার ফারজানার কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য পায়নি র‌্যাব। ফারজানা তার বিরুদ্ধে আনীত জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, হামজা ব্রিগেডের সামরিক উইংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মনিরুজ্জামানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিয়েছেন এটা সত্য, তবে তা জঙ্গি সংগঠনকে সহায়তার জন্য নয়, মামলা পরিচালনার প্রয়োজনে নেয়া টাকা জামিন করাতে না পারায় ফেরত দেয়া হয়েছিল।

তবে র‌্যাব জানিয়েছে, বরগুনা জেলার বাসিন্দা কারাগারে বন্দি মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানী শহীদ হামজা ব্রিগেডের মূল নেতা। তিনি নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমেরও প্রধান। ব্লগার রাজিব হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। কারাগার থেকেই তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বাইরে থাকা সংগঠনের নেতাদের। আর (এসএইচবি) এমন নেতৃত্বস্থানীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার বৈঠক হয়েছিল বলে র‌্যাবের তদন্ত টিম জানতে পেরেছে। তদন্ত টিমের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছেন, দেশীয় নেতারাতো আছেন, পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আল্লামা লিবদি নামে যে ব্যক্তি টাকা পাঠাতেন তার সঙ্গেও ঢাকায় শাকিলার বৈঠক হয়েছে।

তবে শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবী চার দিনের রিমান্ডে এ সংক্রান্ত তথ্যগুলো অস্বীকার করে গেছেন শুরু থেকেই। র‌্যাবের তদন্ত টিমের একটি সূত্র জানিয়েছে, শাকিলা যাই বলছেন, সবকিছুতে নিজের সম্পৃক্ততা আড়াল করার চেষ্টা করছেন। তবে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রমাণ নিয়েই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কারণে তিনি অনেক সময় নিরুত্তর থাকাটাই শ্রেয় মনে করছেন। রিমান্ড মঞ্জুরের পর বুধবার রাতেই শাকিলাসহ তিন আইনজীবীকে নিজেদের হেফাজতে নেয় র‌্যাব। গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, শহীদ হামজা ব্রিগেড নামে সংগঠনটির সাথে যে গ্রেপ্তারকৃত তিন আইনজীবীর যোগাযোগ ছিল, সে সম্পর্কিত তথ্য প্রমাণ নিয়েই আমরা তাদের গ্রেপ্তার করেছি। তারাই শুধু নয়, আরো কয়েকজনের নাম ও সংশ্লিষ্ট তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। এ অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন আরও কয়েকজনকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা লে: কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন জানান জঙ্গিদের জন্য দেওয়া অর্থের উৎস খোঁজার পাশাপাশি ইন্ধনদাতাদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে কিনা, সে সঙ্গে দুবাইয়ের নাগরিক আল্লামা লিবদি ছাড়াও দেশেবিদেশে আর কোনো মদদদাতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান। এই জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের গ্রেফতার করা হবে। তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু জানাতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার গ্রেফতারকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা।

সরকারের মিথ্যা ও হয়রানীমুলক মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের আইনী সহায়তা দেয়ায় সরকার ক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে বলে দাবি করেন তারা।

বিএনপির কেন্দ্রিয় ভাইস চেযারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা অবস্থা পর্যবেক্ষন করছি, এটি বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের জুলুম নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি নেতাদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করার কারনে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমুলকভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনতো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভিন্ন মতাবলম্বিদের বিনা কারণে যে কোন সময় ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

Comments

comments