ব্রেকিং নিউজ

নতুন জাতীয় বেতন-স্কেল, চাপের মধ্যে বেসরকারি খাত

পয়সাদ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।  ১ জুলাই ২০১৫ থেকে দেশের প্রায় ১৩ লাখ সরকারি চাকরিজীবী নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন  ও সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করে চূড়ান্ত করছে অর্থ মন্ত্রনালয়।এতে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন আট হাজার ২৫০ টাকা ধরা হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে এই বেতনকাঠামো কার্যকর হবে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসেন ভুইঞা সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান। এর আগে বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটির দেয়া প্রস্তাবনায় টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাদ দেয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও আজকের বৈঠকের আলোচনায় সিলেকশন গ্রেড রেখে টাইম স্কেল বাদ দেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঠিক কী হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি।

আগামী বাজেটে ৪২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে। চলতি বাজেট থেকে এ খাতে বরাদ্দ বেশি থাকছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন হচ্ছে। যে কারণে আসন্ন বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৪৫ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে।

সেই সঙ্গে বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে।সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে এ সংক্রান্ত কমিশন। সর্বোচ্চ ৮০ হাজার আর সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৬টি গ্রেডে পেশ করা পে কমিশনের সুপারিশে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৮০ হাজার টাকা সুপারিশ করা হলেও, এই স্কেলের বেতন ভাতাসহ অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৩৩ টাকা।

একইভাবে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২০০ টাকা সুপারিশ করা হলেও সব মিলে দাঁড়াবে ১৭ হাজার ৪৫০ টাকা।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিয়মতান্তিক হারে বাড়বে এটাই দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল। অথচ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির জন্য গঠিত কমিশন সম্পূর্ণ অবিবেচনা মূলক ঢালাও ভাবে ১০০% বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করছে। অর্থ মন্ত্রনালয় উক্ত সুপারিশ আমলে নিয়ে বাস্তবায়নের সিদ্বান্ত নিয়েছে। আগামি ১লা জুলাই থেকে দেশের সকল সরকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদেকে বর্ধিত হারে বেতন ভাতা দেওয়া হবে।

নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর বাজেটে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে অর্থ বরাদ্দ আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি রাখা হয়। আসন্ন বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৪৫ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের  বেতন বৃদ্ধির এই প্রভাব বেসরকারি খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিবে নিঃসন্দেহ, বেসরকারি কল কারখানা শিল্প প্রতিষ্টান গুলোতে বেতন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন দানা বেঁধে উঠতেপারে? দেশে বেসরকারী খাতগুলো বিশেষকরে তৈরী পোষাক, শিল্প কল কারখানা গুলোর রপ্তানি আয় বর্তমানে শূন্যের কোঠায়, সেখানে বর্ধিত হারে শ্রমিক কর্মচারি/কর্মকর্তা বেতন দিতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্টান দেউলিয়া হবার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

সরকারি খাতে বেতন বাড়ার ফলে বেসরকারি খাতে বেতন বাড়ানোর একটা চাপ তৈরি হবে। বেসরকারি খাতকে তাদের যোগ্য কর্মীদের ধরে রাখতে বেতন বাড়াতে হবে। বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য  মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে বেতন বৃদ্ধির চাপ বেসরকারি খাতের জন্য বাড়তি ঝামেলার সৃষ্টি হবে।

কমিশনের চেয়ারম্যন সাবেক গভর্নর নতুন বেতন  কাঠামোয় সর্বনিম্ন  ও সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন ভাতা ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর সুপারিশসহ অর্থ মন্তনালয়ে জমা দিয়েছেন।  সে অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা সর্বনিম্ন ৮২০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৮০ হাজারটাকা ‘বেসিক’ ধরে বেতন পাচ্ছেন। এর সঙ্গে তারা পাচ্ছেন মূল বেতনের ২০শতাংশ হারে মহার্ঘ্য ভাতা, যা ২০১৩সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ মূল বেতন ৮০ হাজার টাকা সুপারিশ করা হলেও, এই স্কেলের বেতন ভাতাসহ অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৩৩ টাকা।

একইভাবে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২০০ টাকা সুপারিশ করা হলেও সব মিলে দাঁড়াবে ১৭ হাজার ৪৫০ টাকা।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের মোট জনসংখ্যার  ২% শতাংসের কম । জনগনের  ট্যাক্সের টাকা  ১৬ কোঠি মানুষের দেশে ১৩ লক্ষ সরকারি চাকরিজীবির জন্য ব্যয়করা সরকারি রাজস্বের ব্যপক অপচয় মনে করে সাধারণ মানূষ।

এ ধরণের লাগামহীন বেতনবৃদ্ধি দেশের সাধারণ মানুষ কোন ভাবেই সমর্থন করেনা। সরকারি চাকরিজীবীদের ১০০ শতাংস বেতন ও অনন্য সুবিধা বাড়িয়ে দিয়ে দেশে মূল্যস্ফীতি ঠেকানো কঠিণ হয়ে দাঁড়াবে।

বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দাম যেখানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে,সেখানে দেশের বাকি  ৯৮  শতাংশের বেশি মানুষের অবস্হা কেথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা একবারের জন্য আমলে নেয়নি অর্থ মন্ত্রনালয়? যদি দেশের অবশিষ্ট বিশাল জনগোষ্টির কথা একবার ও চিন্তা করতো তাহলে অর্থ মন্ত্রনালয়  এ ধরণের  লাগামহীন ১০০ শতাংস  বেতন বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করতেননা ।

মাননীয়  প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশের জনগনের অর্থনৈতিক মুক্তি ও দেশকে মাধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার  লক্ষে ভিশন ২০২১ ঘোষনা করেছেন। এবং সেই লক্ষে সরকার দেশের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে দেশে বিদ্যুত,খাদ্য,শিক্ষা যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে যুগান্তকারী উন্নয়ণ বাস্তবায়িত হচ্ছে। মনে হচ্ছে ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মাধ্যম আয়ের দেশের কাতারে পৌঁছে যাবে।

ঠিক এই মুহুত্বে দেশের বর্তমান পেক্ষাপট বিবেচনা করলে ১০০% বেতন বৃদ্ধি মোটেই  বাস্তবসম্মত হয়নি। ১০০% বেতন বৃদ্ধি নাকরে ২৫%-৩০% বাড়ানো যুক্তি সংগত ছিল। মনে হয় বেতন বৃদ্ধির জন্য গঠিত কমিশনের সদশ্য ও অর্থমন্ত্রনালয়য়  দেশের অবশিষ্ট জনগনের কথা বেমালুম ভূলে গেছেন।

এভাবে ঢালাও ভাবে বেতন বৃদ্ধিকরা সঠিক হয়নি।   যারা সরকারি চাকরিতে নেই সেই  মধ্যবৃত্ত ও নিম্ন মধ্যবৃত্ত মানুষগুলো কিভাবে  ছেলে মেয়ে  নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করিতেছে তা আমাদের অর্থমন্ত্রি ও বেতন বৃদ্ধির জন্য গঠিত কমিশন বুজবার চেষ্টা করেননি।

আসলে ওনারা সকলেই বিত্ত-বৈভবের মধ্যে বড় হয়েছেন, উচ্ছবৃত্ত পরিবারের সন্তান। মধ্যবৃত্ত ও নিম্ন মধ্যবৃত্ত পরিবারে যাদের জন্ম তারা বুঝেন সংসারে ছেলে মেয়ে পরিবার নিয়ে শহরে জীবন যাপন কত কষ্টের। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের  এই অসম বেতন বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মাজে একটা নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।

সাধারণ সানুষ মনে করতে পারে সর্বোচ্ছ বেতন ভাতা থেকে শুরু করে রাষ্টের সকল সুযোগ সুবিধা একমাত্র সরকারি চাকরিজীবীদের প্রাপ্য অন্য কারো নয়।

সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি পাবে একটা স্বাভাবিক নিয়মে, কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ২৫% থেকে ৩০% বেতন বাড়ানো যুক্তিসংগত ছিল।   স্বাধীনতার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে যেভাবে পে-স্কেল/ বেতন কাঠামো হয়ে আসছিল তা না করে কমিশন একতরফা কোন কিছু আমলে না নিয়ে অসম বেতন কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করেছেন। দেশের বর্তমান বাস্তবতায় কমিশনের ১০০% বেতন ও অনন্য ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা।

সরকারি চাকরিজীবীদের  বেতন বৃদ্ধির এই প্রভাব বেসরকারি খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিবে নিঃসন্দেহ, বেসরকারী কল কারখানা শিল্প প্রতিষ্টান গুলোতে বেতন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন দানা বেঁধে উঠতেপারে? দেশে বেসরকারী খাতগুলো বিশেষকরে তৈরী পোষাক, শিল্প কল কারখানা গুলোর রপ্তানি আয় বর্তমানে শূন্যের কোঠায়, সেখানে বর্ধিত হারে শ্রমিক কর্মচারি/কর্মকর্তা বেতন দিতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্টান দেউলিয়া হবার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। 

 তাছাড়া সরকারি প্রতিষ্টান গুলোতে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যে বিড়ম্ভনা ও হয়রানির স্বীকার হচ্চে,তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোন কার্যকর উদ্যোগ সরকারের কাছে থেকে থাকলে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত।

মন্ত্রনালয় যদি মনে করে সরকারী চাকরিজীবীদেরকে ১০০শতাংস বেতন বাড়ি গাড়ি ও অনন্য সুযোগ সুবিধা দিয়ে সরকারি প্রতিষ্টান গুলোতে সেবা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাবেন তা বুমেরাং হতে পারে।

কারণ আমাদের দেশের বর্তমান আমলাতন্ত্র রাজনীতির প্রভাব মুক্ত থাকতে পারবেনা, কারণ নব্বইয়ের দশক থেকে দেশের আমলাতন্ত্র প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ভাবে রাজনৈতিক দল গুলোর লেজুরবৃত্তি করে আসছে। এর জন্য শুধু আমলারা একা দায়ী তা নয়,রাজনৈতিক দলগুলো সমান ভাবে দায়ী।

সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারীদের ২৫% থেকে ৩০% বেতন বৃদ্ধি যুক্তিসংগত ছিল। হটাৎ করে কোন কারণ ছাড়াই সরকারী কর্মচারীদের ১০০% এর বেশী বেতন বৃদ্ধি সঠিক হয়নি।

মাননীয়  প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশের জনগনের অর্থনৈতিক মুক্তি ও দেশকে মাধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার  লক্ষে ভিশন ২০২১ ঘোষনা করেছেন,সেই লক্ষে সরকার দেশের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে দেশে বিদ্যুত,খাদ্য, অবকাঠামো খাতে যুগান্তকারী উন্নয়ণ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সাধারণ মানূষ এই অস্বাভাবিক বেতন বৃদ্ধিতে চরম হতাশা প্রকাশ করেছে। সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তর প্রতিষ্টান গুলোতে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত যে  হয়রানির স্বীকার হচ্ছে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোন পদক্ষেপ এপর্যন্ত দৃশ্যমান নয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  দেশ থেকে দূর্ণীতি নির্মুলে  জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। অথচ এখনও সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তরে সাধারণ জনগন সরকারি সেবা নিতে গিয়েও হয়রানির স্বীকার হচ্ছে। ঘুষ মাসোহারা ছাড়া কোন কাজ হচ্ছেনা।  

তাছাড়া সরকারি বিভিন্ন অধিদপ্তর, মন্ত্রনালয়ে, বিভাগে দূর্নীতি যে হারে বেড়ে চলছে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোন বিকল্প সাধারণ জনগনের জানা নেই। সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বেতনবৃদ্ধির ফলে সরকারি প্রতিষ্টান গুলোতে  দূর্নীতির লাগাম কতুটুকু টেনে ধরতে পারবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Comments

comments