ব্রেকিং নিউজ

বিএনপির মেয়রদেরকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়র

মেয়রদ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিএনপির নির্বাচিত মেয়রদের। ইতিমধ্যে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ রোববার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এম এ মান্নানের স্থলে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমানকে।
এ ছাড়া নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলার কারণে রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন পলাতক রয়েছেন। আর খুলনার মেয়র মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে। ‘অসুস্থতা’র কারণে এক মাস ধরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। মাঝখানে একবার খুলনায় গিয়েছিলেন।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রে কথা বলে জানা গেছে, অবরোধ-হরতালে গাড়ি পোড়ানোর মামলা দিয়ে নির্বাচিত মেয়রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। এ সুযোগে তাঁদের জায়গায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্যানেল মেয়রের তালিকায় থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এম এ মান্নানকে সম্প্রতি ঢাকার বারিধারার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে যেসব মামলা করা হয়েছে, সেগুলোর অভিযোগপত্র দেওয়া হলেই তাঁকে মেয়রের পদ থেকে বরখাস্ত করা হবে। এখন অভিযোগপত্র দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে উচ্চ আদালতের এক আদেশে আসাদুর রহমানের প্যানেল মেয়র পদ স্থগিত ছিল। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁকে বৈধ প্যানেল মেয়র ঘোষণা করেন। এর ফলে তাঁর ভারপ্রাপ্ত মেয়র হওয়ার বাধা দূর হয়েছে। ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আসাদুর রহমান বিলুপ্ত টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র আজমত উল্লা খানের ঘনিষ্ঠ।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, মেয়র মোসাদ্দেক হোসেনের মামলার বিষয়ে জানতে চেয়ে করপোরেশনকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন শাখা। এই শাখা সূত্রে জানা যায়, মাস খানেকের মধ্যে রাজশাহীর মেয়র দুবার বিদেশে যাওয়ার জন্য আবেদন পাঠান স্থানীয় সরকার বিভাগে। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ তাঁর মামলার বিষয়ে জানতে চেয়ে রাজশাহীর পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয়। কিন্তু পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে এখনো কোনো প্রতিবেদন পায়নি সিটি করপোরেশন শাখা।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হওয়ার পর থেকে তিনি ঢাকায়। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হান্নান বিশ্বাস বলেন, প্রশাসনিক কাজ তিনি ঢাকা থেকে করেন। প্যানেল মেয়র আনিছুর বিশ্বাস বলেন, আর্থিক ক্ষমতা মেয়র নিজের কাছেই রেখেছেন। এর ফলে সব কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা। বলা যায়, সিটি করপোরেশন চলছে না।
সিলেট সিটি করপোরেশন: সাবেক অর্থমন্ত্রী এস এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হওয়ার কারণে বরখাস্ত হয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সিটি করপোরেশন শাখা সূত্রে জানা গেছে, মেয়র নেই, তাই কাজও নেই। মেয়র বর্তমানে কারাগারে।
ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বে আছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রশাসনিক ঝামেলা কিছুটা কমিয়ে এনেছি, বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জনপ্রতিনিধির কাজ তো আর আমি করতে পারি না।

Comments

comments