ব্রেকিং নিউজ

বিদেশি ফল স্টার আপেল

ষ্টারস্টার আপেল সফেদা (Sapotacee) পরিবারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রীস্ম মন্ডলীয় ফল। এর বৈজ্ঞানিক নাম (Chrysophyllum cainito L)। স্পেনে এটাকে কাইমিটা বা এস্টেরেলা, ওয়েস্ট ইন্ডিজে পোম সুরেট, বারবাডোজে স্টার পাম, কলম্বিয়াতে কাইমো, আর্জেন্টিনাতে আগুয়ে বা অলিভোয়া, চীন বা সিঙ্গাপুরে এটাকে চিকল ডুরিয়ান বলা হয়। তবে এর ভিতরের বীজগুলি ও পাল্প স্টার (*) এর মত থাকায় সাধারণ ভাবে এটাকে স্টার আপেল বলা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের আবহাওয়া এটি ভালভাবেই অভিযোজিত এবং ভাল ফলন ও গুনগত মানের ফল পাওয়া যাচ্ছে। উৎপত্তি ও বিস্তারঃসাধারণভাবে স্টার আপেল সেন্ট্রাল আমেরিকার ফল বলা হলেও এ নিয়ে মতভেদ আছে। কারও মতে এর উৎপত্তি মেক্সিকো ও পানামা অথবা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গুয়াতে মালা, উত্তর আর্জেন্টিনা, পেরু, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুজ, বাবমুদা, হাইতি, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও হাওয়াই প্রভতি অঞ্চলে বর্তমানে স্টার আপেল প্রচুর চাষ হয়। ইদািনং সামুয়া, মালয়, উত্তর ভিয়েতনাম, উত্তর ট্রপিক্যাল আফ্রিকা, জাঞ্জিবার প্রভৃতি আঞ্চলে এ ফলটি বেশ জন্মাতে দেখা যাচ্ছে। উদ্ভিদতত্ত্বঃস্টার আপেল গাছ মাঝারি আকারের (৮-৩০ মিটার) উচ্চতা, ছোট কান্ড (১-৩ মিটার) বাদামী রোমশ এবং শাখা কাটলে সাদা কষ বের হয়। এর গাড় সবুজ প্রায় চর্মবৎ পাতার নিচের দিক খয়েরী রঙের সুক্ষ রোমযুক্ত। পাতা ৫-১০ সে.মি.লম্বা ও ৪-১০ সে.মি. চওড়া হয়ে থাকে। পত্র কক্ষে ছোট গুচ্ছে সবুজাভ হলুদ বর্নের ফুল উৎপন্ন হয় যাতে ৫টি দল থাকে। ফল গোলাকার কখনো সামান্য ও ভাল বা লম্বাটে, ৫-১০ সে.মি.লম্বা ৫-১০ সে.মি.ব্যাস যুক্ত সবুজ থেকে বেগুনী বর্নের হয়ে থাকে। ফলের ভিতরে নরম জিলেটিনযুক্ত দুগ্ধবৎ সাদা মিষ্টি স্বাদযুক্ত পরস্পর সংযুক্ত ৬-১১টি কোষ থাকে যা কেন্দ্রীয় অক্ষের চতুর্দিকে ঘনসন্নিবিশিষ্ট থাকে। আডাআড়ি কাটলে এটা এ স্টার বা তারার মত দেখায় বলে সম্ভবত এ ফলটিতে স্টার আপেল বলা হয়

চাষাবাদঃভাল নিকাশযুক্ত যে কোন রকম মাটিতে স্টার আপেল গাছ ভাল জন্মায়। ৬-৮ মিটার দুরে দুরে বর্গাকারে বা ষড়ভূজী পদ্ধতিতে অন্যান্য ফল যেমন আম লিচু ইত্যাদির মত করে গাছ লাগানো যায়। মাঝারী আকারের গাছ বিধায় চারা লাগানোর আগে চারার জায়গায় ৪৫ সেন্টিমিটার (১ হাত) ব্যাসের ৪৫ সে. মি. গভীর গর্ত করে তাতে ১ ঝুড়ি পচা আবর্জনা বা পুকুরের তলার সার মাটি, আধা কেজি টি.এস.পি বা ১ কেজি এস.এম.পি অথবা ৩ কেজি হাড়ের গুড়া, ২৫০ গ্রাজ এম.পি অথবা ২ কেজি চূলার ছাই দিয়ে তা ভালভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে গর্ত ভরাতে হবে। এবং তার ৭-১০ দিন পর চারা লাগাতে হবে।

পরিচর্যাঃসদ্য লাগানো চারা গাছে প্রথম ৬ মাস পর্যন্ত সাপ্তাহিক ভাবে নিয়মিত পানি সেচ দিতে হবে। পরবর্তীতে মাটিতে রস না থাকলে সেচ দিতে হয়। তবে গাছে ফুল আসার পর পানি সেচ দিলে ফল ধারন বৃদ্ধি পায়। স্টার আপেল গাছে তেমন সার প্রয়োগ করা হয় না তবে দুর্বল মাটিতে সার প্রয়োগে ফলের আকার ও ফলন বাড়ে।

গাছের গোড়ার দফায় দফায় বছরে ৬-১০ ঝুড়ি পুকুরের তলার মাটি বা সার মাটির ঢেলা, ৫-৬ কেজি হাড়ের গুঁড়া ও ১০ কেজি ছাই দিলে আশাতিরিক্ত ফল পাওয়া যাবে। কারন এতে গাছ নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ, চুন, ইত্যাদি খাবার পাবে এবং এর সাথে শুকনা মৌসুমে ১৫ দিন পর পর চার পাঁচ বালতি পানি দিলে এ খাবার গ্রহন করা গাছের পক্ষে সহজ হবে এবং গাছ দ্রুত ফলবতী হতে সক্ষম হবে।

ফল সংগ্রহঃশীতের শেষ থেকে গ্রীস্মের প্রথম প্রর্যন্ত স্টার আপেল এর পাকা ফল সংগ্রহ করা যায়। তবে আমাদের দেশে চৈত্র মাস (মার্চ-এপ্রিল) সবচেয়ে বেশী পাকা স্টার আপেল পাওয়া যায়। গাছ থেকে পাকা ফল এর রং কিছুটা হালকা হয়ে এলে আর ফলত্বক স্পঞ্জ এর মত বা রাবার বলের মত নরম হলে ফল সংগ্রহ করা হয়। কাঁচা ফলে আঠা ও কষ্টা ভাব থাকে ফলে খাওয়া যায় না। গাছ থেকে সাবধানে পাড়তে হয় কেননা মাটিতে পড়লে নরম ত্বকের এ ফল ফেটে যায় ও বাজার মূল্য কমে যায়।

ফলনঃএকটি প্রাপ্ত বয়স্ক ফলন্ত গাছ থেকে গাছের আকার ভেদে প্রতিটি ৫০-১০০ গ্রাম ওজনের ১৫০০-৩০০০ টি ফল পাওয়া যেতে পারে যার ওজন ৬০ থেকে ২৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

ফল সংরক্ষণ:সাধারণভাবে পাকা ফল ২/৩ দিন রাখা গেলেও ৩-৬ সে. তাপমাত্রায় ৯০% আদ্রতায় ও সপ্তাহ পর্যন্ত এ ফল সংগ্রহ করা যায়। পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্র রামগড়এ এক গবেষণায় দেখা গেছে ষ্টার আপেল ফল সাধরন তাপমাত্রায় খোলা অবস্থায় রাখলে ২/১ দিনেই চামড়া শুকিয়ে কুচকে যায় এবং বাজার জাত অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তবে এর ভিতরের অংশ ৪/৫ দিন ভাল থাকে। কাগজের বা কাগড়ের মোড়কে অথবা ছিদ্রযুক্ত পলিব্যাগে রাখা হলে সাধারন তাপমাত্রায় ১ সপ্তাহ এবং নি�œ তাপমাত্রায় (৩-৬০ সে.) স্টার আপেল ১ মাস ভাল অবস্থায় রাখা যায়।

Comments

comments