ব্রেকিং নিউজ

ভেস্তে গেছে ভিক্ষাবৃত্তি রোধে ছাগল প্রকল্প

নীলপামারিপ্রতিবেদকঃ সমাজে যত ধরনের বৃত্তি বা পেশা আছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে অর্মযাদাকর ও অসম্মানজনক পেশা হচ্ছে ভিক্ষা করা। যারা ভিক্ষা করে তাদেরকে সমাজে ভালো চোখে দেখে না। সমাজে তাদের গৌরবজনক কোন ভূমিকা নেই বললেই চলে। ভিক্ষাবৃত্তিকে ইসলাম ধর্মও সমর্থন করে না।

নীলফামারির কিশোরগঞ্জে ভিক্ষা করাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) সিদ্দিকুর রহমান। আর এতে করে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার ১৪৯০ জন ভিক্ষুক। তাদের বড় একটি অংশ এখন ভিক্ষা ছেড়ে ইএনও’র অফিসের সামনে খাবারের জন্য অপেক্ষা করছেন। এমনই একজন পুটিমারী ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ভিক্ষুক নুর ইসলাম (৭০) বললেন, ‘স্যার আমাকে একটি ছাগল দিয়েছে। এই ছাগল পালন করতে গিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।  এক ছাগলে কি দিন চলে?

গত ৫ জুলাই এ উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তখন থেকে ভিক্ষা পেশা ছেড়ে দিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন-যাপন করছেন এসব মানুষ। প্রতিদিন ৩০/৪০ জন ভিক্ষুক ওই কর্মকর্তার অফিসের সামনে সারাদিন বসে থেকে বাড়ী ফেরেন খালি হাতে। ফলে উপোষ রাত কাটাতে হয় অনেককে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেয়া হয় প্রতিটি ভিক্ষুকের হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করা হবে। কিন্তু ঘোষণাটি আষাঢ়ে গল্প হিসেবেই থেকে গেছে। মাত্র একটি করে ছাগল, মুরগী ও কয়েকটি সেলাই মেশিন দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছেন এ কর্মসূচীর উদ্যোক্তা। ভিক্ষুকদের স্বাবলম্বি হওয়ার আশার বানী মিথ্যে ফুলঝুড়িতে পরিণত হয়েছে। কিছু কিছু ভিক্ষুক পেটের ক্ষুধা সহ্য করতে না পেরে ভিক্ষা করতে বের হলে তাকে ভবঘুরে আইনে মোবাইল কোর্টের মাাধ্যমে জেলে পাঠানো হচ্ছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ পুষনা গ্রামের তালিকাভুক্ত ভিক্ষুক রফিকুল ইসলামকে ভিক্ষা করার অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাতদিনের সাজা দিয়ে জেলে পাঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান।
এদিকে ২৬ ফেব্রুয়ারি দেখা যায়, ৩০/৪০ জনের মতো একটি ভিক্ষুক দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বসে আছে। তাদের জিজ্ঞেস করে জানা গেল,তাদের খেয়ে না খেয়ে থাকার করুন কাহিনী।
 

Comments

comments