ব্রেকিং নিউজ

ব্লগার অভিজিৎকে কুপিয়ে হত্যা

অভিজিৎপ্রতিবেদকঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় ব্লগার অভিজিৎ চৌধুরী নিহত হয়েছেন। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা।  হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ১০টা ২৫ মিনিটে প্রচুর রক্তক্ষরণজনিত কারণে অভিজিৎ মারা যান।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টায় টিএসসির বটতলায় অভিজিৎ ও তার স্ত্রীর ওপর হামলা হয়। অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে তারা এ হামলার শিকার হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন যুবক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় চাপাতি দিয়ে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা অভিজিতের মাথায় প্রচ-ভাবে আঘাত করে। এতে তার মাথার মগজ বেরিয়ে আসে। রাফিদার মাথায়ও চাপাতির আঘাত লাগে এবং তার বাম হাতের আঙ্গুল শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। এ সময় চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ রায় মুক্তমনা ব্লগারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি নিয়মিত লেখালেখি করতেন। এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তার দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। একটির নাম ‘শূন্য থেকে মহাবিশ্ব’। অন্যটির নাম জানা যায়নি। শুদ্ধস্বর প্রকাশনী তার বই দুটি প্রকাশ করে।

অভিজিৎ ও বন্যার ওপর কারা হামলা চালিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে বেশ কিছুদিন যাবৎ বিভিন্ন অজ্ঞাত ফোন থেকে তার পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। ফোনে বলা হতো, যারা হুমায়ুন আজাদের অনুসারী তাদের অবস্থাও তার মতো হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এম আমজাদ আলী বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগে থেকে অভিজিতের ওপর হুমকি ছিল যে, তিনি দেশে আসলেই মেরে ফেলা হবে। যারা এ হুমকি দিয়েছে মূলত তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাৎক্ষণিক তারা হয়তো বা উদ্যানের ভেতর দিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

ডিএমপির এডিশনাল কমিশনার (ডিবি) শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেছি। এটি খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। একজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে নিহত করা হয়েছে। অন্যজনকে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আমাদের ডিবি টিম ও শাহবাগ থানা টিম তদন্তে নেমে গেছে। আমরা ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করব।’

এদিকে অভিজিৎকে হত্যার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দাবি করে এবং অভিজিৎসহ অন্যান্যদের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে। এ ছাড়া শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে গণজাগরণ মঞ্চ অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে। পাশাপাশি প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়।

 

Comments

comments