ব্রেকিং নিউজ

মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগের পথ খুঁজছেন এরশাদ

download_13297_0দ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগের পথ খুঁজছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। আগামী এপ্রিল-মে নাগাদ ‘মোক্ষম সুযোগ ও সময় বুঝে’ তিনি সরকারের মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদ থেকে তার দলের সংসদ সদস্যদের পদত্যাগ করানোর ঘোষণা দিতে পারেন। জাপার উচ্চ পর্যায়ের নির্ভরযোগ্য এবং এরশাদের সঙ্গে ঘনিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, চলমান রাজনৈতিক সংকটের চূড়ান্ত ধাপ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ‘অবস্থান’ পরিস্কার হওয়ার পরই পদত্যাগের চিন্তাভাবনা করবেন এরশাদ। এরই মধ্যে ‘আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ধারাবাহিক সরকারের বর্তমান কঠোর

অবস্থান দুর্বল হওয়া’ সাপেক্ষেই এ সিদ্ধান্ত জানাবেন বাংলাদেশের রাজনীতির সুবিধাভোগী এ রাজনীতিক।

যদিও সংসদ ও মন্ত্রিসভায় যুক্ত সদস্যদের বেশিরভাগ নেতাই এরশাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। সংসদ-মন্ত্রিসভায় জাপার পুরো ব্লকটিই তার স্ত্রী বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের পক্ষে । এজন্য তার ঘোষণা কতটা ফলপ্রসূ হবে এ

নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন এরশাদ। এ কারণে দলের অভ্যন্তরে আবারও রওশন-বিরোধী ব্লকটিকে সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। 

যদিও জাপার প্রভাবশালী এক যুগ্ম মহাসচিব পুরো বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। তার মতে, 'এপ্রিল-মে নাগাদ সংসদ কিংবা মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে আসার কোনও পরিকল্পনাই নেই।'

এরশাদের ঘনিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সরকারের শক্ত অবস্থান ‘ক্রমাগত নরম’ হয়ে আসছে। সুশীল সমাজের তৎপরতা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি দূতাবাসগুলোর নড়াচড়া এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের অব্যাহত অবরোধ ও হরতালকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী ধারাবাহিক নাশকতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এখন ক্ষমতা থেকে এক্সিট পয়েন্ট বের করার চেষ্টা করছে। সরকারের কঠোর অবস্থান দুর্বল হলে আগামী দুমাসেই রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হবে। স্বভাবতই ওই সময় রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির পক্ষে বা অন্য কোনও শক্তির পক্ষে থাকবে। সঙ্গত কারণে, রাজনীতির ‘সুবিধাভোগী চরিত্র’ হিসেবে এরশাদ নির্বাচন-প্রাক্কালে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করবেন। যেটি বিগত দিনে এদেশের জনগণ দেখে আসছে।

সূত্রের দাবি, বিগত কয়েকদিনে এরশাদের বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, সরকারের পক্ষে তার থাকা সম্ভব হবে না। গত ৪ ফেব্রুয়ারি এরশাদ বলেছেন, 'ভয়াবহ রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে দেশের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। সরকারের ব্যর্থতায় দেশ প্রায় অচল। সুষ্ঠুভাবে দেশ পরিচালনার জন্য তাই নেতৃত্বের পরিবর্তন আনতে হবে।' এর আগে সরকারের সমালোচনা করে এরশাদ বলেন, 'গণতন্ত্র এখন রাজধানীর শেরে বাংলা নগর ও সংসদ; এই দুই জায়গায় সীমাবদ্ধ।'

সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়ে এরশাদ এই কথাগুলোয় বলে এসেছেন যে, তারপক্ষে সরকারের দিকে কন্টিনিউ থাকা সম্ভব নয়।

যদিও জাপার প্রভাবশালী এক যুগ্ম মহাসচিব বলেছেন, 'এসব জল্পনাকল্পনা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।' তিনি বলেন, 'এরশাদ একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। তার রাষ্ট্রীয় কিছু প্রটোকল রয়েছে। একটি দেশে গিয়ে কোনওভাবেই ওই দেশের সঙ্গে গোপনে কিছু করার নেই। বিষয়টি অযৌক্তিক। কারণ, তিনি তার বন্ধুর বিয়েতে গিয়েছিলেন এবং তার সঙ্গে সব সময় ওই দেশ ও বাংলাদেশের গোয়েন্দাসংস্থার লোকজন ছিল।'

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন 'জাপা' একটি গণতান্ত্রিক দল। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় জাপা গত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। আমরা সরকারে থাকবো কি থাকবোনা তা নিয়ে এখনও দলীয় ফোরামে কোনও আলোচনা হয়নি।

Comments

comments