ব্রেকিং নিউজ

হাতিয়া সাব-রেজিস্ট্রারের অপসারণের দাবিতে দলিল লেখক সমিতির কর্মবিরতি

_57265_09-02-15_&প্রতিবেদকঃ নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা। তার অপসারণ দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে লেখক সমিতি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা রেজিস্ট্রার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন সমিতির সদস্যরা।

সোমবার বিকেল ৩টায় সাব-রেজিস্ট্রারের অপসারনের দাবি করে সমিতির প্রায় ৪০ জন সদস্য হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন।

সমিতির সদস্যরা অভিযোগ করেন, উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘদিন ধরে হাতিয়া থেকে বিভিন্ন ভাবে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রায় সময় তিনি দলিলদাতা ও দলিল লেখকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, ভয়ভীতির প্রদর্শন এবং রমরমা ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, হাতিয়ায় যোগদান করা পর থেকে আজ অবধি সাব-রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদ এজলাসে বসে অফিস করেননি। অফিস করেন তার খাস কামরায় বসে। খাস কামরায় একজন করে দলিল লেখক ডাকেন তিনি। তার পাশে সবসময় বসে থাকেন তার এক প্রভাবশালী আত্মীয়। সেখানে বসে নামজারি খতিয়ানের অজুহাতে দলিল প্রতি কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। নিরুপায় হয়ে প্রয়োজনের তাগিদে জমিনদাতারা তার দাবিকৃত টাকা দিয়ে দলিল সম্পাদন করেন।

এছাড়া আমমোক্তার নামা দলিলে প্রতি একরে এক হাজার টাকা, দানপত্র দলিলে পাঁচ হাজার টাকা, বন্দোবস্ত নথিতে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন তিনি।

 দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা অভিযোগ করেন, নিয়মিত কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও মাসে ৪-৫ দিনের বেশী অফিস করেন না তিনি। বিভিন্ন ভাবে তিনি দলিল লেখকদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূত টাকা হাতিয়া নেন। জেলা সদরের লোক হওয়ায় দলিল লেখকরা সদরের গেলে দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়ে থাকেন তিনি।

পরে সমিতির সদস্যরা জেলা রেজিস্ট্রার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেন।

এদিকে, আবুল কালাম আজাদের অপসারণ দাবিতে সোমবার দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি পালন করছেন দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা।

 এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রার আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

Comments

comments