ব্রেকিং নিউজ

শেখ হাসিনার পাশেই থাকছে দিল্লি

image_105575_020141108094555দ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ বাংলাদেশে নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা চলছে, সেই সংকটের ঠিক এক মাসের মাথায় এসে প্রতিবেশী ভারত তাদের ‘উইশ’ করল যাতে এই সংকট দ্রুত মিটে যায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানানো হয়েছে, ‘আমরা আশা করব বাংলাদেশ সরকার ও সে দেশের মানুষ নিজেরাই এই সংকটের সমাধান করতে পারবেন। সে জন্য তাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক শুভকামনা রইল।’

বাংলাদেশে গত বছরের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের বর্ষপূর্তির দিনে, এ বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল বিএনপি-র রাজপথের আন্দোলন। তার পর থেকে গোটা দেশে অজস্র মানুষ পেট্রল বোমা বা ককটেলে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, কিংবা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

এর মধ্যে যতবারই ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশ পরিস্থিতির অবতারণা করা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরউদ্দীন সেটা বাংলাদেশের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে পাশ কাটিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারিতে এসে তাঁর কথা থেকেও বোঝা যাচ্ছে, ভারতও এখন উদ্বেগ পুরোপুরি এড়াতে পারছে না।

বিষয়টা যে বাংলাদেশের ভেতরকার ব্যাপার এবং এ ব্যাপারে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের কোনও প্রশ্ন ওঠে না– সে কথা তিনি আজও বলেছেন। কিন্তু আকবরউদ্দীন সেই সঙ্গেই যেটা যোগ করেছেন, তাতেই স্পষ্ট বাংলাদেশে একটা সংকট ঘনিয়ে উঠছে বলেই ভারতের ধারণা। তিনি বলেছেন, ‘এই সংকটের সমাধান কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আর তাদের সরকারকেই করতে হবে। তারা যাতে তাতে সফল হন সে জন্য আমরা তাদের উইশ করছি। আর সেই সঙ্গেই বলছি, ভারত সরকার এ ব্যাপারে কোনও জাজমেন্ট কল দেবে না।’

একই দিনে, ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বও ঢাকার শেখ হাসিনা সরকারের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। বিজেপি-র প্রথম সারির নেতারা বৃহস্পতিবার বিবিসিকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার মতো ‘পরীক্ষিত বন্ধু’র পাশ থেকে সরে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

তবে একান্ত আলোচনায় তারা এটাও স্বীকার করছেন, বিরোধী বিএনপি-র সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ আছে – কিন্তু সেটা স্বাভাবিক রাজনৈতিক সম্পর্কের বাইরে কিছু নয়।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা সিদ্ধার্থ নাথ সিং, যিনি বাংলাদেশের রাজনীতিকদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন – তিনি বৃহস্পতিবার বিবিসিকে বলেছেন, ‘ভারতের সম্পর্কটা যদিও বাংলাদেশের সঙ্গে, তারপরও কোন দল সেখানে ক্ষমতায় সেটাও কিন্তু একটা ফ্যাক্টর। আর সে দিক থেকে বলতেই হবে, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের স্বার্থের প্রতি, আমাদের উদ্বেগের প্রতি দারুণ বিবেচনা দেখিয়েছেন। আর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কে ভারত যে জাতীয় স্বার্থকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেবে, তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।’

ফলে শেখ হাসিনার ব্যাপারে ভারতের মোটেই কোনও ধৈর্যচ্যুতি হয়নি বলেই বিজেপি নেতারা বলছেন। বরং তাদের যুক্তি, ‘গণতন্ত্রের ওপর আস্থা রাখতে গেলে শেখ হাসিনা-ই কিন্তু আমাদের একমাত্র অপশন – কারণ ভারত মনে করে তিনি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারের প্রধান!’

বিজেপি নেতাদের এই ধরনের মন্তব্য এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য থেকেও একটা জিনিসই উঠে আসছে – বাংলাদেশের বর্তমান সঙ্কটের আশু সমাধান করা দরকার বলেই ভারত মনে করছে এবং সেই সমাধানের জন্য আপাতত তাদের বাজি একজনই– তিনি শেখ হাসিনা।

তাহলে বিএনপি-র সঙ্গে যোগাযোগটা রাখার দরকার কী?

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন বিএনপি-র আন্দোলন যদি একদিন সফল হয় এবং তারা কোনওভাবে ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে সে ক্ষেত্রে ভারত নিজেকে বেকুব ও নির্বান্ধব অবস্থায় দেখতে চায় না!’

অন্যভাবে বললে, ভারত তাদের বেশির ভাগ ডিম শেখ হাসিনার ঝুড়িতে রেখেছে ঠিকই– কিন্তু খালেদা জিয়ার ঝুড়িও একেবারে খালি রাখতে চাইছে না!

Comments

comments