ব্রেকিং নিউজ

ভারতে নারীদের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করা হয়: সানিয়া

94013_1ভারতে নারীর প্রতি সহিংসতা এবং বৈষম্য দূর করতে সমাজ ও সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতীয় টেনিস তারকা ও জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত সানিয়া মির্জা।

তিনি বলেছেন, ‘লিঙ্গ বৈষম্য বিরাজমান থাকার কারণে আমাদের দেশে একজন সানিয়া মির্জা হওয়া অনেক কঠিন এবং আমাদের এই সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরী।’

ভারতের সফলতম এই টেনিস তারকা একজন ক্রীড়াবিদ হওয়ার পথে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন সেগুলোর বর্ণনা দেন।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে আমার ক্যরিয়ারের শুরু থেকে অনেক ধরনের বিতর্কের মোকাবেলা করতে হয়েছে। এর প্রধান কারণ ছিল আমি একজন নারী। আমি যদি একজন পুরুষ হতাম তবে আমি কিছু বিতর্ক এড়াতে পারতাম।’

মঙ্গলবার সানিয়াকে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে জাতিসংঘের নারী শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা দূর করতে এবং লিঙ্গ সমতার জন্য সচেতনতা বাড়াতে এক প্রচারাভিযানে যোগ দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে আরো বেশি সংখ্যায় নারীরা আসবে এবং এর জন্য প্রয়োজন আমাদের সংস্কৃতির পরিবর্তন।’

‘সরকার এ ব্যপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং আমি মনে করি এ বিষয়ে অনেক পরিবর্তন আসছে। বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নারীদের খেলাধুলাকে অনেক সমর্থন করছেন।’

সানিয়া আরো বলেন, সরকার আমাদের সমাজে বিদ্যমান লিঙ্গ বৈষম্যের ব্যাপারে অগ্রসর হয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে দেখে আমি অনেক খুশি।

 ভারতে একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনতে মিডিয়া বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সানিয়া।

জাতিসংঘ নারী ইতিহাসে প্রথম দক্ষিণ এশীয় নারী শুভেচ্ছা দূত নিযুক্ত হওয়ার পর সানিয়া বলেন, আমরা সবাই লিঙ্গ সমতার সমর্থক।

ভারতের সবচেয়ে সফল নারী টেনিস খেলোয়াড় বলেন, ‘ভারতে নারীদের কোনো মর্যাদা নেই। নারীরা বৈষম্যের শিকার। তাদের সাথে পশুর মত ব্যবহার করা হয় এবং এটি অন্যায়। আমাদের চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন এবং এর জন্য মানসিকতারও পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পুরুষকে অবশ্যই বুঝতে হবে তাদের মত নারীরাও তাদের কাজ করতে বাইরে আসছে। নারীদেরকেও তাদের নিজস্ব মূল্য উপলব্ধি করতে হবে।

‘আমি আশা করি, একদিন সবাই বলবে যে, আমরা সবাই সমান এবং নারীকে আর বস্তু হিসাবে বিবেচনা করা হবে না। আমি একটি যথার্থ পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করব এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই করব।’

 

Comments

comments