ব্রেকিং নিউজ

লতিফ সিদ্দিকীর আত্মসমর্পণ, কারাগারে প্রেরণ

1416757176অনেক নাটকীয়তার পর আলোচিত সাংসদ ও বর্তমান সরকারের সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে আদালতে নেওয়া হয়। ধানমন্ডি থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট।
মঙ্গলবার শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান এ আদেশ দেন। তবে শুনানিতে লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

কারাগারে নেয়া হয়েছে সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে। তিনি এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ৩৫ মিনেটের দিকে কারাগারের মূল ফটক দিয়ে তাকে ভেতরে নেয়া হয়।  

মঙ্গলবার শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে শুনানিতে লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

বাদী পক্ষে আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এএনএম আবেদ রেজা নিজেই শুনানি করেন।
এএনএম আবেদ রেজা শুনানি শেষে সাংবাদিকদের বলেন, আদালত লতিফ সিদ্দিকীকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছেন। আদালতের এ আদেশে আমরা খুশি। আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। এ সময় লতিফ সিদ্দিকীকে তিনি দেশের কুলাঙ্গার বলেও মন্তব্য করেন।

আমাদের আদালত প্রতিবেদক জানিয়েছেন, বেলা আড়াইটার দিকে লতিফ সিদ্দিকীকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে শুনানি শুরু হয়েছে। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু লতিফ সিদ্দিকী জামিন আবেদন করেননি।
তিনি জানান, আদালত প্রাঙ্গণে লতিফ সিদ্দিকীর ওপর জুতা নিক্ষেপ করেছে আইনজীবীরা। এসময় তিনি কোনো কথা বলেননি।
এর আগে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করেন মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

ইসলাম ধর্মের কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা বহুল আলোচিত সাংসদ ও বর্তমান সরকারের বহিষ্কৃত মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী রোববার দিবাগত রাতে তিনি দেশে ফেরেন এবং আজ মঙ্গলবার দুপুরে আত্মসমর্পণ করেন।

উল্লেখ্য, ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে সেখানকার টাঙ্গাইল সমিতির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী।
এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।
লতিফ সিদ্দিকীর এই বক্তব্যের পর সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এ কারণে নিউইয়র্ক থেকে আর দেশে ফেরেননি তিনি। তিনি ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছিলেন।
 বিভিন্ন গণমাধ্যমকে টেলিফোনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বারবারই বলেছিলেন, তিনি দেশে ফিরবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘটনার প্রায় দুই মাস পর দেশে ফিরলেন নানা কারণে বিতর্কিত এই সাবেক মন্ত্রী।
লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে যখন দেশে তোলপাড় চলছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ছিলেন না। দেশে ফিরে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লতিফ সিদ্দিকী গর্হিত কাজ করেছেন।
তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেন শেখ হাসিনা। এরপর গত ১২ অক্টোবর তাকে মন্ত্রী ও দলীয় সভাপতিমন্ডলীর সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সর্বশেষ ২৪ অক্টোবর দলের সদস্যপদ থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়।

Comments

comments