সশস্ত্র বাহিনী দিবস আজ

8আজ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দেশ প্রেমিক জনতা ও মুক্তিবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সূচনা করে। দিবসটি উদযাপনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। যথাযথ মর্যাদা ও উত্সাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে।  এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়ার পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসস্থ অফিসার্স ক্লাবে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য খেতাবপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান ও বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা এর নিকটাত্মীয়, ৩ জন বীর উত্তম, ৬ জন বীর বিক্রম ও ১১ জন বীর প্রতীক/তাঁদের নিকটা-ত্মীয়দের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোত্সর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূইয়া, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়াও তিন বাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত্ করবেন।
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা জানাবেন। এছাড়াও ২০১৪-২০১৫ সালে সশস্ত্র বাহিনীর শান্তিকালীন সেনা/নৌ/বিমান বাহিনী পদক এবং অসামান্য সেবা পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পদকে ভূষিত করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কর্তৃক ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে এক বৈকালিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও তিন বাহিনী প্রধান নিজ নিজ বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা/তাঁদের উত্তরাধিকারীদের অনুরূপ সংবর্ধনা প্রদান করবেন। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌ জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটিতেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। ঢাকা (সদরঘাট), নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনী জাহাজসমূহ বেলা ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বাহিনী দিবসের তাত্পর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন রাত আটটার বাংলা সংবাদের পর সশস্ত্র বাহিনীর পরিবেশনায় ‘বিশেষ অনির্বাণ’ অনুষ্ঠান সমপ্রচারিত হয়। বাংলাদেশ বেতার আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ‘বিশেষ দুর্বার’ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। ‘বিশেষ অনির্বাণ’ অনুষ্ঠানটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলসমূহে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সম্প্রচারিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে আজ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রচনা, চিত্রাঙ্কন এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের নিকটাত্মীয়দের সেনাপ্রধানের সংবর্ধনা :গতকাল ঢাকা সেনানিবাসস্থ অফিসার্স ক্লাবে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধ ও তাদের নিকটাত্মীয়দের সম্মানে সেনাপ্রধানের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানের শুরুতেই খেতাবপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন বীরত্বগাথার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সেনাসদরসহ ঢাকায় কর্মরত ঊর্ধ্বতন সেনাকর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

Comments

comments