ব্রেকিং নিউজ

বাংলাওয়াশে স্বপ্নপূরণ ফল : বাংলাদেশ ১৮৬ রানে জয়ী

pic-13_151952 তিন টেস্টের সিরিজে এই প্রথম প্রতিপক্ষকে ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্নপূরণ তো অপ্রত্যাশিত কিছু ছিল না। প্রত্যাশিত ছিল যে সিরিজের ট্রফিটা এদিনই তুলে দেওয়া হবে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের হাতে। কিন্তু ‘উইনার্স বোর্ড’ সামনে নিয়ে হইহল্লা করে মুশফিকরা ছবি তুললেন ট্রফি ছাড়াই। জানানো হয়েছে যে ওয়ানডে সিরিজ শেষে একবারে দেওয়া হবে। এই সিরিজ শুরুর আগে টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে উঠে আসাই ছিল বাংলাদেশের লক্ষ্য। সেজন্য জিম্বাবুয়ে নামের রাজ্য জয় করেই এগোতে হতো। খুলনায় সিরিজ জেতার সঙ্গে সঙ্গেই এগিয়ে যাওয়া স্বাগতিকরা চট্টগ্রামে ১৮৬ রানের বড় জয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ব্যবধান বাড়িয়ে নিল আরো। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের ১০ নম্বরে থাকা দলকে খেলতে হবে আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশগুলোর টুর্নামেন্ট ইন্টার কন্টিনেন্টাল কাপ বিজয়ীর সঙ্গে। ৩-০ দিয়ে সেই লজ্জা এড়ানোর লড়াইয়ে আপাতত ১৪ পয়েন্টে এগিয়ে থাকল বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও যেন আগের চেয়ে এক ধাপ এগোনো। কেউ এমন কিছু করলেন না, যাতে প্রচারের সব আলো তাঁর ওপরই গিয়ে পড়ে। ঢাকায় দ্বিতীয় ইনিংসে একাই জিম্বাবুয়ের ৮ উইকেট তুলে নিয়ে ‘নায়ক’ হয়ে গিয়েছিলেন তাইজুল। খুলনায়ও স্পিন উপযোগী উইকেটে ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়া সাকিব আল হাসানকে ঘিরেই ছিল মাতামাতি। কিন্তু চট্টগ্রামের উইকেটটা হলো একটু অন্য রকম। যেখানে টার্নের আশায় শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও তেমন কিছু পেলেন না স্পিনাররা। কিন্তু তাতে কেউ হতাশ হলেন না। বরং শেষ দিনের পারফরম্যান্স হয়ে গেল সম্মিলিত প্রচেষ্টার জ্বলন্ত এক উদাহরণও। কেউ বিশেষ কিছু করলেন না, কিন্তু যা করলেন সবাই মিলে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১ ওভার হাত ঘোরানো শুভাগত হোমের (২/৬৬) ওপর এদিন মুশফিক আস্থা রাখলেন খুব। এই অফ স্পিনার দুটো মূল্যবান উইকেট তুলে নিয়ে আস্থার প্রতিদানও দিলেন খুব। আরেক অফ স্পিনার মাহমুদ উল্লাহও (১/৪) সাফল্য দিলেন। প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট পাওয়া লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন (২/৫৬) আর বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামও (১/৪৮) স্বপ্ন সত্যি করার মিশনে পিছিয়ে থাকলেন না। দুই পেসার শফিউল (২/১৭) আর রুবেল হোসেন (২/১৬) দ্বিতীয় নতুন বল হাতে পেতে না পেতেই জিম্বাবুয়েকে গুটিয়ে দেওয়ার কাজটা সারলেন। পঞ্চম দিনে ৮ ওভার বোলিং করে সাকিবই কেবল উইকেটহীন থাকলেন। ‘টিম বাংলাদেশ’-এর ছবিটা তো ফুটে উঠছে এখানেই। ৩-০ করার দিনে নির্দিষ্ট কারো দিকে আর তাকিয়ে থাকতে হলো না। অবশ্য দলের প্রয়োজন ভুলে আক্রমণাত্মক হতে চাওয়া জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যানদেরও কিছুটা দায় আছে স্বাগতিকদের পঞ্চম দিনের কোনো কোনো সাফল্যে। শেষ দিনে আরো ৩৭৮ রান করা সম্ভব ছিল না তাঁদের পক্ষে। বড়জোর সম্ভব ছিল অলআউট না হয়ে দিনটা পার করে দিয়ে ড্র করা। কিন্তু দিনের অষ্টম ওভারেই শুভাগতের বলে অযথা রিভার্স সুইপ খেলতে গেলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তাঁর গ্লাভসে লেগে উঠে যাওয়া ক্যাচ নেন মুশফিক।

Comments

comments